চুনারুঘাটে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী শামসুল হক হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটন
স্টাফ রিপোর্টার ঃ চুনারুঘাটের নরপতি গ্রামে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী শামসুল হক হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটন হয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, শামসুল হককে হত্যার পর তার বাড়ীর উপর দিয়ে রাস্তা করতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এদিকে ব্যবসায়ী শামসুল হক হত্যাকান্ডের সুবিচার কামনা করেছেন নিহতের স্ত্রী ও তার মা। এদিকে ২ খুনীকে গ্রেফতার করলেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবার। সরেজমিনে নরপতি গ্রামের নিহত শামছুল হকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ীতে শামছুল হকের বিধবা স্ত্রী শান্তা হক, ৩ সন্তান ও বৃদ্ধা মাতা বসত ঘরের দরজা বন্ধ করে নিরবে অবস্থান করছেন। তাদের বাড়ীতে কোন মানুষ গেলে আতঙ্কে দরজা খুলছেন না। সাংবাদিক পরিচয় দিলে শামছুল হকের বৃদ্ধা মাতা জুবেদা বেগম ঘর থেকে বের হয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় আশপাশের লোকজনদেরকে ডেকে এনে জুবেদা এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার ছেলে হত্যাকারীদের বিচার চাই। নিহত শামছুল হকের স্ত্রী শান্তা জানান, তিনি ১ মেয়ে ও ২ শিশু পুত্র নিয়ে অসহায় এবং নিরাপত্তা হীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। শান্তা তার স্বামী হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে খুনীদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
জানা যায়, শামসুল হক নরপতি গ্রামের মৃত মস্তুর মিয়ার পুত্র। তিনি ধান চালের ব্যবসা করতেন। গত ২৯ জুুন রাত ৩টার দিকে একদল সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী শামসুল হকের বাড়ীর কলাপসিবল গেইট এবং দুটি দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে ঢুকেই ব্যবসায়ী শামসুল হককে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাকে বাঁচাতে তার মা জোবেদা বেগম (৬৫) এবং ছোট বোন নিলু বেগম (৪০) চিৎকার শুরু করলে পরিবারের অন্যান্য লোকজন জেগে উঠলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে শামসুল হককে গুরুতর আহত অবস্থায় চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরের দিন শনিবার বিকেলে সিলেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, নিহত শামসুল হকের স্ত্রী ও তার ৯ বছরের ছেলের বক্তব্য থেকে বিষয়টি পরিস্কার যে রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। তাদের বক্তব্যের সুত্র ধরেই পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকান্ডের রহস্য বেড়িয়ে আসে। তিনি জানান, নিহত শামসুল হকের সাথে পাশের বাড়ির অপর এক সামছুল হক ও আব্দুস সালামের বাড়ীর রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘাতক সামছুল হক ও আব্দুস সালামের বাড়ীর কোন রাস্তা না থাকলেও জোরপূবর্ক নিহত শামছুল হকের বাড়ীর উপর দিয়ে রাস্তা করার চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মুরুব্বিয়ান নিয়ে শালীস বৈঠকও হয়। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। এতে প্তি হয়ে উঠে প্রতিপ সামছুল হক ও আব্দুস সালাম। ব্যবসায়ী শামছুল হকের কোন ভাই ও নিকট আত্মীয় তার বাড়ীর আশ পাশের বাসিন্দা নেই। ফলে প্রতিপ সামছুল হক ও আব্দুস সালামের ধারণা ছিল তাকে খুন করলেই রাস্তা নিতে আর কেউ প্রতিবাদকারী থাকবে না। ঘটনার দিন গত ৩০ জুলাই গভীর রাতে প্রতিপ সামছুল হক ও আব্দুস সালামসহ একদল সন্ত্রাসী মুখোশ পড়ে নিহত শামছুল হকের বাড়ীতে প্রবেশ করে বলে ধারনা নিহতের পরিবারের। বাড়িতে ঢুকেই ব্যবসায়ী শামসুল হককে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তার স্ত্রী বলে বাড়ীতে স্বর্ণালংকারসহ টাকা পয়সা যা আছে নিয়ে যাও, তবু আমার স্বামীকে হত্যা করো না। এসময় সন্ত্রাসীরা জানায় আমরা এসেছি তোর স্বামীকে হত্যা করতে, মালামাল নিতে নয়। ঘটনার পর পুলিশকে নিহত শামছুল হকের স্ত্রী জানান, তার স্বামীকে হত্যা করার সময় ঘাতক সালামের মুখ থেকে গামছা পড়ে যাওয়ায় তাকে তিনি চিনতে পেরেছেন।
এদিকে ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ বেলাল মিয়া ও আব্দুল হক নামের ২ আসামীকে গ্রেফতার করে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই এই মামলা চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কবিরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ওই মামলার আইও এস আই আবুল কালাম আজাদ জানান, শামছুল হক হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ২ আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে। অচিরেই তাদের গ্রেফতার করতে সম হবে পুলিশ।




































