চুনারুঘাটে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউএনও’র বিভিন্ন দূর্নীতি তদন্তের দাবী
চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আইন শৃঙ্খলা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন দূর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠনের দাবী জানালেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন কাউছার। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা সভায় এ দাবী জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর, ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম, চৌধুরী শামছুন্নাহার, ওয়াহেদ আলী মাস্টার, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, এজাজ ঠাকুর চৌধুরী, আবু সালেহ মোঃ শফিকুর রহমান, আইয়ূব আলী মাস্টারসহ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চুনারুঘাটে চাকুরী করার সুবাধে ইউএনও মুজিবুর রহমান বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমান চুনারুঘাট পৌর শহরের মাগুরউড়া মৌজার বড়াইল গ্রামে ২০ শতক জমি তার স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন। এ জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন উপজেলার নয়ানী গ্রামের মইব উল্লার কাছ থেকে। তিনি নামে বেনামে চুনারুঘাট পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউএনও মুজিবুর রহমান নিজের খেয়াল খুশি মত বিভিন্ন প্রকল্প তৈরী করে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে উন্নয়নমূলক কাজের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। যেখানে গ্রামীণ অবকাঠামো রয়ে গেছে অবহেলিত সেখানে তিনি উপজেলা কমপ্লেক্সের মজা পুকুরের পাড়ে তৈরী করেছেন সুরম্য “চন্দ্র বাসর” নামের ঘাটলা। এই ঘাটলা নির্মাণের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন টিআর প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা। প্রকল্পে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পৌরসভার ড্রেনের উপর কোন সিসি পিলার ছাড়াই তৈরী করা হয়েছে সীমানা প্রাচীর। চুনারুঘাটে একমাত্র সরকারি খেলার মাঠে সীমানা প্রাচীর দেয়ায় প্রতিদিন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার শিশু-কিশোর। মাঠের এক কোণে সিকিউরিটি রুম তৈরীর নামে হাতিয়ে নিয়েছেন ২ লাখ টাকা। টিআর প্রকল্পের অর্থ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমান অবৈধভাবে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে উন্নয়নমূলক কাজের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। চলতি অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর অনুকূলে চুনারুঘাটে বরাদ্দকৃত ১৭৫ টন টিআর চাউল-গম এর মধ্যে প্রায় ৭৫ টন হরিলুট হয়েছে। নামসর্বস্ব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে এ ঘটনা ঘটে। তারা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া কাবিখা ও টিআর বাস্তবায়নের েেত্রও ব্যাপক দূর্নীতি রয়েছে। এই দূর্নীতির কারণে চুনারুঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না সরকারের এসব কর্মসূচী। হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের এমপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামূল হক মোস্তফা শহীদের আশির্বাদে এতো বছর পর্যন্ত চুনারুঘাটে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ইউএনও মুজিবুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কোন কথা বলছে না। তার দূর্নীতি দিন দিন বেড়েই চলছে। এ ব্যাপারে ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, জমিতো আমার নামে ক্রয় করা হয়নি। জমি ব্যবসা হালাল ব্যবসা। যা করেছি নিয়ম অনুযায়ী করেছি।
ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমান ২০০৭ সালের চুনারুঘাটে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বিগত ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৬ ফেব্র“য়ারী ২০০৮ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১৯ মার্চ ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ৫ বছর চুনারুঘাটে চাকুরি করার সুবাধে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। চুনারুঘাটের সচেতন মহল ইউএনও মোঃ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।


































