হবিগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে জমজমাট সুদের ব্যবসা ॥ নিস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ ॥ অনেকেই রাতারাতি কোটিপতি ॥ নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়
আশরাফুল ইসলাম কাহিনুর / রাজীব দেব রায় রাজু ॥ হবিগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসা। এই ব্যবসা করে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। অনেকেই এখন শুন্য থেকে কোটিপতি। নামে বেনামে রয়েছে সম্পদের পাহাড়। এক সময় এই ব্যবসা গোপনে চললেও এখন প্রকাশ্যেই চলছে। যা দেখার কেই নেই। ফলে দিন দিন এই ব্যবসার বিস্তার হচ্ছে। নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, গত ১/১১ এর সময় হবিগঞ্জের সুদখোর ও সুদি ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছিল। ডিবি পুলিশের মাধ্যমে এই তালিকাটি তৈরী করা হলে ওই সময় গা ঢাকা দিয়েছিল এই ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ। অনেকেই গ্রেফতার আতংকে অসুস্থ হয়েছিলেন। কেউ কেই ব্যবসা গুটিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক জীবন বেচে নিয়েছিলেন। কেউ কেউ ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। পরবর্তিতে ওই সুদি ব্যবসায়ীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলেও বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও ২২ কেরেট, ২১ কেরেট ও ২৪ কেরেট আমদানি করা বিদেশি স্বর্ণের নামে ভেজাল স্বর্ণ বিক্রি করা হচ্ছে দেদারছে। রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রির সময় ক্রেতাকে মূল্য সংযোজন কর ও চালান বই প্রত্যেক ব্যবসায়ীর হাতে থাকা বাধ্যতামূলক। যে পরিমান টাকার স্বর্ণ বিক্রি হয় ওই টাকার উপর ক্রেতারা কর প্রদান করলেও সরকারের এ টাকা ব্যবসায়ীরা আত্মসাত করছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মূল্য সংযোজন কর ও চালানবহি অনুযায়ী নিয়মিত সরকারকে কর দেয় কিনা এজন্য কর বিভাগের লোকজন নিয়মিত তদারকি করার বিধান থাকলেও কতিপয় অসৎ কর কর্মকর্তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের মাসোহারা হাতিয়ে নেয়। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব্য।
অন্যদিকে সাধারণ লোকজন টাকার প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে মূল্যবান স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিলে মোটা অংকের সুদ দিতে হয়। শুধু তাই নয় অসৎ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের রেখে যাওয়া বন্ধকী স্বর্ণ বদলিয়ে ভেজাল স্বর্ণ ফেরত দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের প্রায়ই দেন দরবার হচ্ছে। গ্রামে গঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কিছু নিজেস্ব দালাল রয়েছে। তাদের কাজ হল গ্রামের লোকজনদের টাকা প্রয়োজন হলে তাদের ফুসলিয়ে ওই সব স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে আসা। অনেক লোক স্বর্ণ দিয়ে টাকা নিলে ব্যবসায়ী স্বর্ণ ফেরত নেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়। এ সময়ের মধ্যে সুদসহ আসল টাকা ফেরত না দিতে পারলে তাদের স্বর্ণ আর ফেরত পায় না। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এই ফাঁদে পরে অনেকেই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আর এই সুদের ব্যবসা করে অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে জায়গা জমি ক্রয় করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। যার মধ্যে অনেকের বৈধ আয়ের কোন বিকল্প উৎস নেই। এদিকে জেলার মাধবপুরে স্বর্ণ ব্যবসা মানেই সুদের ব্যবসা। দিন দিন এই ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।









































