আইপিএলকে ঘিরে শায়েস্তাগঞ্জে জমজমাট জুয়ার আড্ডা

0
1

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শুরু হলো (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ) আইপিএল এর ক্রিকেট আসর। এ খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র শুরু হয়েছে জমজমাট জুয়ার আড্ডা। মধ্য বয়সী থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এমনকি সিএনজি চালক, রাজমিস্ত্রি, যোগালী ও দিন মজুরেরা পর্যন্ত এ জুয়া খেলার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

এ খেলায় অংশ গ্রহন করে কেউ রাতারাতি পকেট ভারী করছে আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে শুন্য পকেটে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, শহরতলীর গোবিন্দপুর গ্রামে জনৈক জুয়াড়ি ব্যক্তি আইপিএল ক্রিকিট খেলার বাজিতে হেরে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রুনা আক্তার(২৫) প্রহার করে ক্ষত বিক্ষত করে। এক পর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৭ মার্চ ২০১৯ থেকে শুরু হওয়া এই আইপিএল বিশ্বের সকল তারকা ক্রিকেটারদের মিলন মেলা। এ ক্রিকেট খেলার উন্মাদনার ঝড় বইছে শায়েস্তাগঞ্জের সর্বত্র। ক্রিকেট প্রেমিক যুবসমাজের মাঝে বিরাজ করছে এক প্রকারের ক্রিকেট উন্মাদনা।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যুবসমাজের একটি বড় অংশ এই খেলাটিকে জঘন্য জুয়ার আসরে পরিনত করেছে। তারা মূলত আইপিএল খেলা উপভোগ করে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যেই।
খেলা শুরু হলে প্রতি ওভারে ওভারে জুয়া খেলায় টাকার অংক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

অপরদিকে প্রতি রানে-রানে প্রতি বলে-বলে ধরা হয় হাজার হাজার টাকার বাজি। কোন ব্যাটসম্যান বেশী রান তোলবে, কোন বোলার অধিক উইকেট শিকার করবে, কোন তারকা ব্যাটসম্যান কতটি ছক্কা অথবা চার হাঁকাবে এ নিয়ে চলে জুয়ার দর কষাকষি। সবশেষে পছন্দের দলের হার জিত নিয়েও চলে বড় অংকের টাকার খেলা। এভাবে প্রতিটি খেলা উপলক্ষ্যে উপজেলার সর্বত্র চলে লক্ষ লক্ষ টাকার বাজি ও মোটা অংকের টাকার জুয়া খেলা।
যেখানে খেলা দেখার লোকসমাগম বেশী হয় মূলত সেখানেই এই জুয়ার আসর জমজমাট হয়।

সাধারণত পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে অথবা যেখানে বড় স্ক্রীনে বিপিএলের খেলা দেখানো হয় সেখানেই এ জুয়ার আসর বসে, যা কেউ বুঝতে পারে কেউ পারেনা। এসব জুয়াড়িরা কৌশলগত কারণে বরাবরই থেকে যায় প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে। এভাবে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে ও প্রত্যন্ত গাঁয়ে বিপিএলকে ঘিরে বসছে জুয়ার আসর। ফলে জুয়াড়িদের পাতা ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ উদীয়মান যুবসমাজ। সচেতন অভিভাবক মহল চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তাদের সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

এদিকে খেলা চলাকালে শায়েস্তাগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের টহলের খবর পেয়ে ওই জুয়াড়িরা আড়ালে চলে যায়। টহল পুলিশ চলে গেলে পরক্ষনেই আবার জুয়ার আড্ডায় ফিরে আসে তারা। অত্র এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল ও জনগণের দাবী প্রশাসন কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে ওই সমস্ত যুবসমাজকে অনৈতিক জুয়ার জাল থেকে বের করে আনতে দৃষ্টি দিবেন।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে