শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১
32 C
Habiganj

চলে গেলেন হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান শফিকুল হক চৌধুরী

না ফেরার দেশে চলে গেলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান আশা’র প্রতিষ্টাতা প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান জনাব শফিকুল হক চৌধুরী।

গতরাত ১১:৩০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

আশা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ১৯৪৯ইং সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে বি. এ (সম্মান) সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। উল্লেখ্য, বিসিএস ১৯৭৩ ব্যাচের প্রবেশনারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়েও চাকুরীতে যোগদান না করে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করেন এবং দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ উন্নয়ন কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

আশা একটি বেসরকারি সংস্থা। পুরো নাম অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট। সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তার লক্ষ্যে মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী কর্তৃক ১৯৭৮ সালে। আশা দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহ যোগায় এবং এ লক্ষ্যে তাদের সংগঠিত করে।

১৯৭৮-১৯৮৫ সালে আশা দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড সম্পাদন করে, আইনি সহায়তা প্রদান করে ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে, সাংবাদিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে।

১৯৮৫-১৯৯১ সালে সংস্থাটি শিক্ষা, ঋণদান, ক্ষুদ্র কৃষি, নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে আশা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে কাজ করে। এছাড়া আশা সদস্যদের সঞ্চয়, ক্ষুদ্র ইন্সিওরেন্স ও চিকিৎসা অনুদান কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত এবং দেশব্যাপী এর শাখা বিস্তৃত। কেন্দ্র ও মাঠ পর্যায়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষার জন্য দুজন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা হলেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার ও রিজিওনাল ম্যানেজার। ব্রাঞ্চ অফিসেই চলে দলগঠন, সদস্যদের সঞ্চয় গ্রহণ ও ঋণ বিতরণ কার্যক্রম।

প্রতিটি ব্রাঞ্চ অফিসে একজন ব্রাঞ্চ অফিসার ও গড়ে চারজন লোন অফিসার কাজ করেন। একজন লোন অফিসার সাধারণত ১৮টি দলের দায়িত্বে থাকেন। প্রতিটি দলে গড়ে ২০ জন সদস্য থাকেন। আশা’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২৫৬ জন কর্মী কাজ করেন। সংস্থাটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁকে সহায়তা করার জন্য রয়েছেন চারজন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বেশ কয়েকজন ডাইরেক্টর।

আশা’র ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের উৎস হচ্ছে সংস্থার নিজস্ব অর্থ, সদস্যদের সঞ্চয় এবং পল্লী কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনের ঋণ। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় আশা’র ব্রাঞ্চ অফিস ৩২৩৬টি, কর্মী ২৪ হাজার এবং সদস্যসংখ্যা ৫৫ লাখ। আশা ২০০৯ সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে একটি প্রবীণ নিবাস প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সর্বস্তরের মানুষকে চিকিৎসা সেবা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করার জন্য একটি কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছে।

আশা ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে ‘আশা ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। ‘আশা ইন্টারন্যাশনাল’ মরিশাসে রেজিস্ট্রিকৃত।

সিএমআই নামে নেদারল্যান্ডভিত্তিক ইক্যুইটি সংস্থা আশা ইন্টারন্যাশনালকে তহবিল সরবরাহ করছে। বর্তমানে আশা ইন্টারন্যাশনাল ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, ঘানা ও কম্বোডিয়ায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা ২০০৭ সালে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্বল্পখরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগদানের জন্য আশা ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চার হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী আশা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করছে।

প্রিয় পাঠক

আপনার আশেপাশের যে কোন সমস্যার কথা আমাদেরকে লিখে পাঠান। এলাকার সম্ভাবনার কথা, মাদক, দুর্নীতি, অনিয়ম আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ পাঠিয়ে দিন আমাদের ই-মেইলে। ই-মেইলঃ habiganjnews24@hotmail.com

95,640FansLike
1,432FollowersFollow
2,458FollowersFollow
2,145SubscribersSubscribe