চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে ভাংচুর

চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে ভাংচুর

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের ঝুড়িয়া বড়বাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র নিরীহ প্রতিবন্ধী বাবুল মিয়া ওরফে বকুল মিয়ার  বসতঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

জানা যায়,  প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় আজ  বুধবার ভোর ৬টায় উপজেলার ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী বাবুল মিয়া ওরফে বকুল মিয়ার বসতবাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চুনারুঘাট থানার এস.আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মো: হেলাল উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের ফেলে যাওয়া একটি রামদা, শাবল, টিন খোলার পাঞ্জা জব্দ করেন। এসময় আসামীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামে বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী ছুকেরা খাতুন বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করাবস্থায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে বকুল মিয়ার সাথে তার ছোট ভাই সবুজ মিয়া কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র দা এনে বড় ভাই বকুল মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

এসময় বকুল মিয়ার স্ত্রী ছুকেরা খাতুন বাধা দিলে সবুজ মিয়া দা দিয়ে কুপিয়ে ছুকেরা খাতুনের দুই হাতে ও দুই পায়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বকুল মিয়া ৬ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে সি.আর ১০৫/২০ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানাকে এফ.আই.আর গণ্যের আদেশ দিলে চুনারুঘাট থানায় মামলা রুজু হয়। যার চুনারুঘাট থানার মামলা নং- ১৩, তাং- ১২/০৩/২০২০ ইং, জি.আর নং- ৬১/২০ (চুনা:)।

মামলার আসামীরা হল- ঝুড়িয়া বড়বাড়ি গ্রামের মৃত হাসিম মিয়ার পুত্র মানিক মিয়া, কাজল মিয়া, সবুজ মিয়া, ফজলু মিয়া, বিলাল মিয়া, জমিলা খাতুন। মামলা দায়েরের পর থেকে মামলার আসামীরা বাদী প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া ও তার স্ত্রী ছুকেরা খাতুনকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। বকুল মিয়ার সাথে তার আপন ভাই সবুজ মিয়া গংদের দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল বুধবার ভোরে সবুজ মিয়ার নেতৃত্বে অপরাপর বিবাদীগণ প্রতিবন্ধী বকুল মিয়ার বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় বিবাদীগন বকুল মিয়ার বসতঘরের ছাউনীর ৭ বান্ডিল ঢেউটিন খুলে নিয়া যায়।

পুলিশের হস্তক্ষেপে বকুল মিয়া ও তার পরিবার বিবাদীগণের কবল থেকে প্রাণে রক্ষা পায়। বকুল মিয়ার মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলার আসামীরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

এদিকে অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটি তাদের নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হবিগঞ্জ ফৌ: কা: বি: ১০৭ ধারায় সবুজ মিয়া সহ ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীদের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকির ফলে বকুল মিয়া তার নিরাপত্তার জন্য চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন, যার নং- ২৭৪/১৬, তাং- ৭/৪/১৬।

ইতিপূর্বে গত ২০১৯ সালে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়াকে তার ভাইয়েরা সবুজ মিয়া, ফজলু মিয়া, মানিক মিয়া ও কাজল মিয়া গংরা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। উক্ত ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাছাড়া বিবাদী সবুজ মিয়া গংদের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া বাদী হয়ে গত ২০১৬ সালে একটি দ্রুত সি.আর মামলা দায়ের করেন, যার নং- ০৮/১৬, ০৪/১৬। বিবাদী ফজলু মিয়া গংরা বকুল মিয়ার মাতা আতকরা খাতুনকে মারপিট করে জখম করে।

উক্ত ঘটনায় আতকরা খাতুন বাদী হয়ে ফজলু মিয়া গংদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হবিগঞ্জ মামলা দায়ের করেন। এদিকে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া র‌্যাব-৯ অধিনায়ক, শ্রীমঙ্গল বরাবরে একটি আবেদনও দাখিল করেছেন। বর্তমানে বিবাদীদের ভয়ে প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া তার পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ইনাতাবাদ সাকিনে বসবাস করছেন। নির্যাতিত অসহায় প্রতিবন্ধী বকুল মিয়া সুবিচার পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।