হবিগঞ্জকে আরো সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখছি আমি

শহরে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা সভায় এমপি আবু জাহির

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনিত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেছেন, আমি বিগত ১০ বছরে সকলের পরামর্শ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। মানুষের চাওয়া-পাওয়ার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সকল চাহিদা পূরণ করতে হলে একটি দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। আমি হবিগঞ্জবাসীর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট প্রার্থনা করছি।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন কাজ করা আমার লক্ষ্য আর জনগণের ভালবাসাকেই শক্তি মনে করে আগামী দিনে জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই। আমি যে কাজ করেছি, তা আপনাদের চোখের সামনে হয়েছে। আগামীতেও যা করতে চাই, তাও আপনাদেরকে অবগত করেছি। আপনাদের কাছ থেকে যে কোনও পরামর্শ আসলে আমি তা গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।

হবিগঞ্জবাসী আমার কাজের মূল্যায়ন করে সর্বদলীয় নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে, এতেকরে আমি কাজ করতে আরো অনুপ্রাণিত হয়েছি। একটি এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অবকাঠামোতগত উন্নয়নই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানব সম্পদের উন্নয়ন। আমি শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ সকল ক্ষেত্রেই কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে কর্মমুখী শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছি। আমার আহবানে বিনিয়োগকারীরা এসে এখানে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। আগামীতেও এই বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির জন্য কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রবাসে দক্ষ কর্মী প্রেরণে গুরুত্ব প্রদান করবো। এছাড়া প্রবাসীরা যাতে দেশে কোনও ধরণের হয়রাণীতে না পড়েন, তার জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কারণ- আমি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকার জনসাধারণের সাথে যেভাবে সম্পৃক্ত থাকি, তেমনিভাবে প্রবাসীদের মাঝেও ছুটে যাই তাদের যে কোনও আহবানে। আমার এই আন্তরিকতার জন্য অনেক প্রবাসী নেতাকর্মী এখন দেশে এসে নৌকার জন্য কাজ করছেন। এই ভালবাসা আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বড় অর্জন।

তিনি বলেন, হবিগঞ্জবাসী আর জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক ব্যবসার আস্তানা দেখতে চায় না। সকলেই চায় শান্তি। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা যাতে বৃদ্ধি পায় তারও দাবি রয়েছে জনগণের। আমি জনগণের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- পুরাতন খোয়াই নদীকে কেন্দ্র করে হাতির ঝিলের ন্যায় নানন্দিক প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিশুপার্ক নির্মাণ, ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণসহ পরিবশের ব্যাপক উন্নয়ন।

হবিগঞ্জ শহরে যখন, বাস চলাচল করে যানজট সৃষ্টি হতো তখন আমিই প্রথম উদ্যোগ নিয়ে বাইপাসে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর করেছিলাম। শহরের ভিতর থেকে বাস বাইরে নিয়ে যাই। শহরে অব্যাহত চাপ কমাতে উপ শহর প্রকল্প গ্রহণ করেছি। অচিরেই একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। হবিগঞ্জ শহরে বাইপাস সড়ককে চার লেনে রূপান্তরের প্রকল্পও গ্রহণ করা হবে। সবকিছু মিলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও বিনোদনের সুবিধা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে হবিগঞ্জকে আরো সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন আমি দেখছি। এই সপ¦ বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৩০ ডিসেম্বর আপনাদের মহামূল্যবান ভোট, দোয়া ও আশির্বাদ।

গণসংযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারণা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- আওয়মাী লীগ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী, মুকুল আচার্য্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক এডভোকেট লুৎফুর রহমান তালুকদার, প্রচার সম্পাদক অনুপ কুমার দেব মনা, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আফীল উদ্দিন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ক্ষিতিষ গোপ, উপ প্রচার সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির বকুল, সদস্য ব্যরিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, মোস্তফা কামাল আজাদ রাসেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু, সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিরাজ মিয়া, ফরহাদ হোসেন কলি, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, চৌধুরী মোঃ মাসুদ আলী ফরহাদ, শাহ মোঃ আলমগীর সোহাগ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পার্থ সারথি রায়, পৌর যুবলীগ সভাপতি হিরাজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন, হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান রবিন, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ পারভেজ, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোবারক হোসেন ফুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজল সরকার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কমিশনার জুনায়েদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিপন মিয়াসহ হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।