ত্রি-মাত্রায় শিক্ষা

ত্রি-মাত্রায় শিক্ষা

দেবযানী ধর: জামাল সাহেব সকালে ঘুম থেকে ওঠেই বাজারে গেলেন। বাজার ঘুরে ঘুরে সেরা জিনিস খুজে কিনে আনলেন। দাম দিয়ে নিজের বুদ্ধিতে, কখনো দোকানদারের কথায় বাজার করে বাসায় ফিরলেন।

বাসায় ফিরে নিজের স্ত্রীর হাতে বাজার দিয়ে রান্না করতে বললেন। খুব আয়েস করে যত্ন নিয়ে মাংস, তেল, নানা-পদের মসলা দিয়ে চুলায় রান্না শুরু করলেন মিসেস জামাল।

একঘন্টা পর যখন চুলা থেকে রান্না নামিয়ে থালায় দেবার সময় দেখা গেলো কাচা মাংস আর মসলা এছাড়া আর কিছু না। জামাল সাহেবের পরিবার তো হতভম্ব। সমস্যাটা তাহলে কি? মিসেস জামালের সব ঠিক ছিল কিন্তু সমস্যা ছিল তিনি রান্না করার সময় আগুন জ্বালাতেই ভুলে গেছেন। রান্না করার সময় সব ঠিক থেকেও যদি আমরা আগুন না জ্বালাই তাহলে রান্না কি কেবল পানি আর মসলায় হবে?

এই একই কাজ আমারা করে যাচ্ছি সবসময়, পার্থক্য হচ্ছে কাজটা আমরা রান্নার ক্ষেত্রে না করে শিক্ষার ক্ষেত্রে করি। শিক্ষার সাথে শিক্ষক আর শিক্ষার্থী সরাসরি জড়িত থাকলেও এখানে আগুনের মত গুরূত্বপূর্ণ ভুমিকায় আছেন একজন সচেতন অভিভাবক।

একজন সচেতন অভিভাবক হচ্ছে একটা সেতুর মতো। শিক্ষার্থীর সুশিক্ষার জন্য একটা ভালো বিদ্যালয়, একজন সৎ শিক্ষকের পাশাপাশি একজন সচেতন অভিভাবক অনেক প্রয়োজন।

মিসেস জামাল যদি রান্নার মধ্যে কয়েকবার পর্যবেক্ষণ করতেন তাহলে হয়তো এমনটা না হতে পারত। প্রায়শ অনেক মফস্বল এলাকার বিদ্যালয়ের অভিভাবক খুব বিশেষ প্রয়োজন না হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীর খোজ নিয়ে দেখেন না।

অনেকসময় অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত হলেও কাজের অজুহাত কিংবা নিরব উপস্থিতি থাকে। শিক্ষার্থীর সুশিক্ষার জন্য শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাকের পর্যবেক্ষণ অনেক জরুরী।

অভিভাবকের তৎপরতা, এমন চিত্র কেবল নামীদামী স্কুলেই দেখা যায়, হয়তো আর্থিক স্বচ্ছলতাই অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরি করে দেয়। কেবল ইতিহাস নয় বর্তমানও সাক্ষী শিক্ষা কখনোই অর্থ দেখে তৈরী হয় না।

শিক্ষার বিকাশের জন্য অর্থের প্রয়োজন, কিন্তু শিক্ষার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের। ত্রিমাত্রিক – শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবক।

একজন শিক্ষক শিক্ষার পথ তৈরী করে দিতে পারেন, সেই পথে চলতে হবে শিক্ষার্থীকেই আর সেই পথকে মসৃণ করে দিতে পারেন একজন সচেতন অভিভাবক।

এই ত্রিমাত্রিক জগতে শিক্ষার সম্পূর্ণ বিকাশ, প্রয়োগ আর ধারণের জন্য ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের প্রয়োজন। একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয় কিংবা সাফ্যলের পিছনে অনেক বড় ভুমিকায় আছেন একজন অভিভাবক।একজন সচেতন অভিভাবকের সঠিক পর্যবেক্ষণই পারে একজন শিক্ষার্থী কে সঠিক ও সফল লক্ষ্যে পৌছাতে।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ।