দেশ কি স্বাভাবিক পথে?

দেশ কি স্বাভাবিক পথে

দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশী সময় ধরে চলমান লকডাউন আজ থেকে খোলা হচ্ছে সীমিত আকারে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রথম সনাক্ত হন করোনা রোগী। তারপর ২,৪,৮…করে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে সংক্রমন।

পরিস্থিতি সামলাতে পুরো দেশ লকডাউন করে দেয় সরকার। প্রসাশনের কড়া তদারকিতে কিছুটা ধীর গতিতে ছড়ছিল করোনা ভাইরাস।

আজ থেকে দেশের সব জায়গায় লকডাউন শিথিল করা হলেও, কার্যত লকডাউন শিথিল হয় ৫ দিন পূর্ব থেকেই। প্রসাশনের কড়াকড়ি না থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানেই দোকানপাঠ সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার প্রবেশদ্বার মিরপুর বাজারে গত ৫ মের পর থেকেই জনসমাগম চোখে পরার মতো। সরকার লকডাউন খুলে দিলেও জুড়ে দিয়েছে বাজার- মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্ত।

প্রতিটি মার্কেটের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকার শর্ত রয়েছে। রয়েছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা।

আজ (১০ মে) সরেজমিনে মিরপুর বাজার ঘুরে দেখা যায় কোথাও নেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সামান্যতম জো। পুরো বাজারে কোনো মার্কেটেই পাওয়া যায় নি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি মানছেন না কেউই।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা যেন ভুলেই গেছেন প্রাণঘাতী করোনার তান্ডব। এমনকি ফেস- মাস্ক পড়তে দেখা যায়নি ন্যূনতম ১০ শতাংশ লোককেও।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১৪৪২৫ জন মানুষ। ভয়ংকর তথ্য হলো এর মধ্যে ৬ হাজারের বেশী মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন গত ১০ দিনে।

এমন পরিস্থিতিতে মানুষের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরনে আগামীতে আরো ভয়াবহ রুপ ধারন করতে পারে করোনা ভাইরাস।

এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মিরপুরের সচেতন মহল। তারা বলছেন এখনই যদি মানুষ করোনার পৈশাচিক তান্ডবের কথা ভুলে যায় তাহলে পুরো দেশের মতোই অসচেতনতার ভয়ংকর প্রতিফল ভোগ করতে হতে পারে বাহুবল ও মিরপুর বাসীকেও।