নবীগঞ্জের ইকবাল মিয়ার রেষানলে নিরীহ ইয়াহিয়া

নবীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীর রোষানলে পড়ে বিভিন্নভাবে হয়রাণী শিকার হচ্ছে এক নিরীহ বক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর গ্রামে। জানা যায়, ওই গ্রামে মৃত আব্দুল্লা মিয়ার পুত্র লন্ডন প্রবাসী নুর মিয়া ওরফে ইকবাল মিয়া গত ৮ মার্চ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত-৫ এ একটি মামলা ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন ফতরে অভিযোগায়ের করেন একই গ্রামের সৈয়দ উল্লার পুত্র মোঃ ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। শুধু মামলা করেই ক্রান্ত হয়নি, এলাকায় বিভিন্নভাবে লাটিয়াল বাহিনী তৈরি করে ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে ইকবাল মিয়া দেশ ত্যাগ করেছেন। আর উক্ত লাটিয়াল বাহিনী ইয়াহিয়াকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। যে কোনসময় ওই লাটিয়াল বাহিনী তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও প্রচার করে আসছে।

প্রকৃত পক্ষে লন্ডন প্রবাসী নুর মিয়া ওরফে ইকবাল মিয়া ও লন্ডন প্রবাসী আফজাল মিয়া হল ইয়াহিয়ার মামাতো ভাই। নবীগঞ্জের গজনাইপুর গ্রামে ইয়াহিয়া তার নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল এবং লন্ডন প্রবাসী আফজাল মিয়ার তার সহায় সম্পত্তি দেখার জন্য তাকে দায়িত্ব য়ে। প্রায় ১৭/১৮ বছর যাবত ইয়াহিয়া তার মামাতো ভাই আফজল মিয়ার সম্পত্তি অত্যান্ত সততা ও ক্ষতার সাথে দেখাশুনা করে আসছে। সম্প্রতি নুর মিয়া ও আফজাল মিয়ার মধ্যে লন্ডন ও বাংলাদেশের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ইদানিং নুর মিয়া দেশে এসে ইয়াহিয়াকে চাপ প্রয়োগ করে আফজাল মিয়ার’ সহায় সম্পত্তি তাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। এতে ইয়াহিয়া রাজি না হওয়ায় তার উপর চড়াও হয় এবং মারধোর করে। শুধু তাই নয়, নুর মিয়ার বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইস্ট রোগে ভুগছিলেন, আফজল মিয়া ও নুর মিয়া দেশে না থাকায় তাদের মা-বাবাকে দেখাশুনা করে আসছিল ইয়াহিয়া। প্রায় ২ বছর পূর্বে নুর মিয়ার বাবা মারা গেলে ইয়াহিয়া নিজেই তার মামার দাফন কাপন সম্পন্ন করে। এদিকে নুর মিয়ার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ইয়াহিয়া বাড়ি ছাড়া হয়ে আতংকে নি কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে নুর মিয়ার ভাই লন্ডন প্রবাসী আফজাল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নুর মিয়া এলাকায় যে সব অপকর্ম করে আসছে এবং নিরীহ মানুষদের হয়রাণী করছে তাকে আমার ভাই বলে পরিচয় দিতে ঘৃণা হয়। সে শুধু দেশে নয়, লন্ডনেও আমার বাবার ক্রয়কৃত শতবর্ষ পুরানো বাড়ীটিও বিক্রি করে টাকা আত্মসাত করেছে। বিশৃংখলা সৃষ্টি করে দিয়েছে আমাদের পরিবারের মাঝে। তার স্বভাব চরিত্র ভাল নয়।

আফজাল মিয়া আরো জানান, ইয়াহিয়া আমার আপন ফুফাতো ভাই, সে খুব ভাল মানুষ। আমার সহায় সম্পত্তি দেখাশুনা করে। শুধু তাই নয়, আমার মা-বাবাকেও দেখাশুনে করে আসছিল। সম্প্রতি নুর মিয়া দেশে গিয়ে আমার সম্পত্তি আত্মসাত করার জন্য চেষ্ঠা চালায়, এতে ইয়াহিয়া বাঁধা দিলে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।