নবীগঞ্জের জায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জায়েদ হোসেন (২২) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নিহত জায়েদের বন্ধু। মূলত প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতেই জায়েদকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) নবীগঞ্জ থানা কমপাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ৫ মার্চ সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রাম থেকে জায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মো. ধনাই মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রুবেল মিয়া (২৬), হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার আউশকান্দি ইউনিয়নের মো. লাল মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (৩০) এবং মৌলভীবাজার জেলার ঘোড়াশাল গ্রামের জমসেদ মিয়ার ছেলে মো. রনি মিয়া (২৩)।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এসপি (নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্কেল) পারভেজ আলম।

তিনি বলেন, জাহেদ হোসেন শেরপুর বাজারে ব্যবসা করতেন। আর গ্রেপ্তারকৃতরা একে অপরের বন্ধু-বান্ধব। তারা প্রায়ই একে অপরের সাথে কথা বার্তা বলতো। এবং শেরপুর বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিত।

তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের হ্যাপি আক্তার সুখী রিপন মিয়ার ফুপাত বোন। আর এই হ্যাপি আক্তার সুখীর সাথে মোহাম্মদ রুবেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালে হ্যাপি তার বড় মামাতো/খালাতো রত্না বোন রত্না বেগমের স্বামী রিপন মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসে। জায়েদ ও রিপনের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় হ্যাপির সাথে জায়েদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এতে করে রুবেলের সাথে হ্যাপির প্রেমের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যায়। অন্যদিকে হ্যাপির সাথে জায়েদের বিয়েও ঠিক হয়ে যায়। গত ৬ মার্চ পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হবার কথা ছিল।

আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশের ও কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার কিছুদিন পূর্বে পাওনা টাকা নিয়ে জায়েদের সাথে রুবেলে তর্কাতর্কি হয়। একই সাথে রুবেল প্রেমে ব্যর্থ হওয়া মেনে না নিতে পেরে জায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতা নেয় সে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত ৪ মার্চ রাত ১১ টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলযোগে জায়েদ বাড়ি ফেরার সময় আসামিরা তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। এরপর আসামিরা তাকে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে।

এছাড়াও আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।