নবীগঞ্জের দিন দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে ১২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ছিনতাই

0
5

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: এশিয়ার বৃহত্তম নবীগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টের নির্মান কাজে নিয়োজিত দি বেঙ্গল ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানী লিমিটেড এর অফিস থেকে দিন দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে ১২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ মে) দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।

ছিনতাইয়ের ৬ ঘন্টার মধ্যে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭লক্ষ টাকা সহ ২ ছিনতাইকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নবীগঞ্জের সর্বত্র তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের হাতে ধৃত ছিনতাইকারীরা হলো নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র সাজু আহমেদ (২৫), তার সহযোগী একই গ্রামের রাহাত উল্লার পুত্র সাঈদ আহমেদ (২৬)।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বিবিয়ানা বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দি বেঙ্গল ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানী লিমিটেড এর সিকিউরিটি ইনচার্জ ইমন আহমেদ ও সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার ও কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া উক্ত কোম্পানীর হেড অফিসের কর্মকর্তা রবিউল আজিম সহ ৪ জন মিলে উক্ত কোম্পানীতে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাসিক বেতনের টাকা প্রদান করছিলেন।

বেঙ্গলের কর্মকর্তা ইমন আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে যখন আমরা শ্রমিকদের বেতন বিলি করছিলাম এই সময়ে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের অফিসে বীরদর্পে প্রবেশ করে সাজু ও সাঈদ। তারা ফিল্মি স্টাইলে আমাদের জিম্মি করে আমরা ৪ জনের কাছ থেকে ১২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

তাৎক্ষনিক এ খবর আমি আমার হেড অফিস ও থানা পুলিশকে অবহিত করি।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নবীগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর কাওসার আহমেদ।

তিনি বলেন, আমি ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক একদল পুলিশ নিয়ে এলাকায় অবস্থান করি এবং প্রায় ৬ ঘন্টার মধ্যেই উল্লেখিত দুই ছিনতাইকারীকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ লক্ষ টাকা সহকারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার হাজী দুলাল মিয়ার বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

এদিকে ছিনতাইকৃত ১২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার মধ্যে ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হলেও বাকী ৫ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধারে জন্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলেও জানা গেছে।

অপর দিকে উক্ত ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যেন খেচু খুড়তে সাপ বেড়িয়ে এসেছে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উক্ত ইউনিয়নের বহুল বির্তকিত চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টে নিয়োজিত দি বেঙ্গল ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানী লিমিটেড এর কাছ থেকে প্রতি মাসেই কোন কাজকর্ম ছাড়াই মাসিক চাঁদা হিসাবে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উৎখোচ বানিজ্য করছেন।

এর সত্যতা জানতে চাইলে উক্ত কোম্পানীর সিকিউরিটি ইনর্চাজ ইমন আহমদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই টাকা আমাদের অফিস দেয়, ইহা আমাদের কিছু করার নেই!

চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমান হারুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোম্পানী আমার ইউনিয়নে কাজ করবে আর আমরা কি বসে বসে আঙ্গুল চুষবো? তবে, দেড় লক্ষ টাকা মাসিক চাঁদাবাজীর অভিযোগ তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন- চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন। একটি ইউনিয়নের কর্তা হয়ে তিনি কিভাবে দেড় লক্ষ টাকা প্রতি মাসে উৎখোচ বানিজ্য করেন? তবে, উনি কি আইনের উর্ধ্বে?

উল্লেখিত বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রাত ৮টা এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে