নবীগঞ্জে ঝাকজমকপূর্ণভাবে চলছে ৪র্থ উন্নয়ন মেলা

0

নবীগঞ্জে ঝাকজমকপূর্ণভাবে চলছে ৪র্থ উন্নয়ন মেলা। নানা আয়োজনে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী ৪র্থ উন্নয়ন মেলার আজ শেষ দিন।

শনিবার(৬ অক্টোবর) উন্নয়ন মেলার তৃতীয় দিনে দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরসহ ৫০টি স্টলকে নানা রংয়ে সাজানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রর্দশিত হয় প্রত্যেক স্টলে। স্টলগুলো থেকে তাৎক্ষনিকভাবে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করে মেলায় অংশ গ্রহনকারী দপ্তরগুলো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ-বিন হাসানের তত্ত্বাবধানে ৩ দিন ব্যাপী এ উন্নয়ন মেলাটি ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ৩য় দিনের মেলা সম্পন্ন হয়। বিকেলে মতবিনিময় সভা, রিয়েলিটি শো, রচনা প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ-বিন হাসানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গনি ওসমানী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিটু চন্দ্র অধিকারী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ছাদেক খান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চনন কুমার সাহা, পল্লী বিদ্যুতের ডিজি এম. আব্দুল বারী প্রমুখ। অ

ন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ছাইমুদ্দিন, সময় পত্রিকার সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার, বার্তা সম্পাদক ও বাংলা টিভির নবীগঞ্জ প্রতিনিধি মতিউর রহমান মুন্না, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর নুর, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মীর তারিন বাশার লিমা, সমবায় কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য মোঃ জাকারিয়া, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, সেনেটারী ইন্সপেক্টর নূরে আলম সিদ্দিকী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মীর তারিন বাশার লিমা, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রীতিশ রঞ্জন চৌধুরী ও আব্দুল আহাদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও ভোরের কাগজের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি সুবিনয় রায় বাপ্পি ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আশাহিদ আলী আশা, নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহি দেওয়ান চৌধুরী, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার অলি উল্লাহ ও উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ আশফাকুজ্জামান চৌধুরী, অফিস সহকারী আব্দুল কাইয়ুম, ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী বিপুল চন্দ্র চক্রবর্তী ও সুব্রত কুমার দেব, পানিউমদা ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ জুনাইদুর রহমান, সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকতা হাবিবুর রহমান, কাজির বাজার ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, ইনাতগঞ্জ ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকতা শাহেদ আলী, গোপলারবাজার ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকতা আবু বক্কর প্রমুখ।

বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়। মেলায় বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ এর নবীগঞ্জ জোনাল অফিস ৩ দিনে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করেছে। দু’দিনে তারা ৪৭৬টি আবেদন গ্রহণ করেছে এবং দিনে দিনে নতুন মিটারের সংযোগ দিয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিসে ২০০ নামজারীর আবেদন গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকগণ সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দিচ্ছে আর.আর টেলিকমিউনিকেশন। কেন তারা ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দিচ্ছেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রব রনি বলেন, মেলায় স্থাপিত স্টলগুলো এবং আগত দর্শনার্থীরা যাতে করে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই তারা এই সুবিধা দিচ্ছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, দেশ বর্তমানে উন্নত হচ্ছে এবং দেশ আরো উন্নত হবে। দেশ যে দুর্ভার গতিতে এগিয়ে চলেছে সে সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে দেশব্যাপি চলছে উন্নয়ন মেলা। এ মেলার মাধ্যমে সরকার তার উন্নয়ন কর্মকান্ড কিভাবে হচ্ছে সেটা সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপি আরো বলেন, এক সময় নবীগঞ্জ উপজেলারই বিভিন্ন গ্রামে যেতে হলে নৌকা ও পায়ে হেটে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে পাকা রাস্তা হওয়ায় যত রাতই হোক না কেন গাড়িযোগে যাওয়া যায়। শিক্ষা খাতেও এগিয়েছে নবীগঞ্জবাসী। নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সরকারী হয়েছে, নবীগঞ্জ জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় সরকারী ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিগত ৫ বছরে নবীগঞ্জ বাহুবলের ১২১টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। কোন গ্রাম এখন বিদ্যুৎ বিহীন নেই হয়ত কোন কোন গ্রামে ১৫/২০টি বাড়ি বাকী খাকতে পারে এমন কোন গ্রাম নেই যে বিদ্যুৎ নেই প্রায় ৯৫% বিদ্যুৎ গ্রামে গ্রামে পৌছে গেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো উপজেলা ১০০% বিদ্যুৎ পেয়ে যাবে। এই সরকারের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, একটি নৌকায় যদি ভালো মাঝি থাকে, তাহলে কিন্তু নৌকা এগিয়ে যেতে পারবে। আমাদের নৌকার মাঝি যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি একজন ভালো সংগঠক, তিনি একজন ভালো রাষ্ট্র নায়ক। যার কারণে এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে শুধু মধ্যম আয়ের দেশ নয় বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর মধ্যে একটি রোল মডেল।