নবীগঞ্জ শহরে বিস্ফোরণে এক জনের মৃর্ত্যু

নবীগঞ্জ শহরে বিস্ফোরণে এক জনের মৃত্যু

নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোড়ে টেকাদেঘী অটো ও বয়লার মিলে বিস্ফোরণে বয়লার ফায়ারম্যান নাছির মিয়া (৩৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শ্রমিকসহ আরো ৬ জন।

বিস্ফোরণে আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে আব্দুল কাদির (৩৯) কে আশংকাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোড টেকাদিঘীর মার্কেটে অবস্থিত ধান সিদ্ধ দেয়ার বয়লার মিলে। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর ক্ষেপে উঠে। বিকট শব্দের পর পর বাসা-বাড়ির নারী পুরুষ শিশু আতংকে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে ভূমিকম্প ভাবলেও পরে বিস্ফোরনের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল বুধবার সকালে ফায়ারম্যান নাসির মিয়াসহ ৫ জন শ্রমিক ধান সিদ্ধ দেয়ার কাজ শুরু করেন। হঠাৎ কাজের শেষ দিকে বিকট আওয়াজ করে বিস্ফোরন ঘটে।

ঘটনাস্থলেই ফায়ারম্যান নাছির মিয়া নিহত হন। নিহত নাসির নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের ভুমিরবাক গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র।

অপর আহতরা হলেন বয়লার শ্রমিক আব্দুল কাদির (৩৯), নিতাই দাশ (৪০), বয়লার ম্যানেজার মিলন দাশ (৪৬), সফিকুর রহমান (৩৫), শ্রীকান্ত দাশ (৪০) ও পাশের বাসার রীনা দাশ (৪০)।

আহতদেরকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বিস্ফোরনে চুলার ছিমনি উড়ে প্রায় ৫০০-১০০০ গজ দূরে গিয়ে পড়ে।

বিস্ফোরনে বয়লার পাশে ইব্রাহিম (রঃ) জামে মজসিদ, আলী ভিলা, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, আল-হেরা বই ঘরসহ প্রায় ৫/৬টি বাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিস্ফোরনের বিকট আওয়াজ প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দুর থেকে শুনা যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লিডার ফজল মিয়ার নেতৃত্বে ধমকল বাহিনীর টিম ১ ঘন্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আনে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল, পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী, প্যানেল মেয়র-১ এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ মিলু, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিয়াসহ রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- তাৎক্ষনিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন- টেকাদিঘী অটো রাইচ ও বয়লার মিলসটি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বিস্ফোরণ এর কারণ জানতে ঢাকা থেকে বিস্ফোরক অধিদপ্তর এর বয়লার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা এসে পরীক্ষা করবে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান জানান- থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর মর্গে প্রেরণ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বয়লারের চুলায় কোন না কোন ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।