ফারাক্কা বাধের ১০৯ গেট খুলে দেয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

ফারাক্কা-বাঁধ
ফারাক্কা বাঁধ

ফারাক্কা বাধ এর ১০৯ গেট খুলে দিয়েছে ভারত, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা। ভারতের বিহার, পাটনা ও মালদা এলাকায় ভারী বর্ষণ ও হঠাৎ বন্যায় ফারাক্কা বাঁধের ১০৯ টি লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নেওয়া দেশটির এ সিদ্ধান্তে এপারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার পদ্মা নদীতে হুট করেই পানি প্রবাহ বেড়ে যায়।

হঠাৎ ঢলে রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, ভারতের বিহার, মালদা ও পাটনার পানি পদ্মা নদীতে আসে। বর্তমানে সেখানে ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে উজানের পানির ঢলে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করতে সময় লাগবে না।

তিনি আরও জানান, সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮.০১ মিটার উচ্চতায় পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল, যেখানে বিপদসীমা হলো ১৮.৫০ মিটার। সকাল ৬টায় পানি রেকর্ড হয়েছিল ১৭.৯০ মিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন নগরীর শ্রীরামপুর, পাঁচানি মাঠ, সোনাইকান্দি, বাজে কাজলা, পঞ্চবটি, শ্মশান ঘাট, তালাইমারি বাদুড়তলা এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া টি-বাঁধ, আই-বাঁধ, বড়কুঠি এলাকায় বিনোদ প্রেমিদের আনাগোনাও কমে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব চাঁপাইনবাগঞ্জ) সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ১২ ঘণ্টায় ১০ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এভাবে পানি বাড়তে থাকলে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালের মধ্যে পানি বিপদসীমা পার হয়ে যাবে। পানি বৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী অংশ বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, চরখানপুর ও মধ্যচর মিলে বানভাসি মানুষদের ৩৬৫ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহীর বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় হিসাবমতে, বাঘার ১৫টি চরের প্রায় তিন হাজার ৬০০ পরিবার গত সাত দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছেন।

ভারী-বর্ষণে-তলিয়ে-গেছে-পাটনার-নিম্নাঞ্চল
ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে পাটনার নিম্নাঞ্চল

পবা ও গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ভাঙনের কবলে পড়েছে পদ্মাপাড়ে বসবাসকারী মানুষ। বাঘায় পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এরই মধ্যে ১১টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দুটি স্কুল ভাঙনের কবলে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে। স্থানীয় বাজার ও মসজিদও যেকোনও সময় বিলীন হতে পারে পদ্মায়।

বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, আমরা ভাঙন কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছি। এরমধ্যে, দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

৮৫টি পরিবারের বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

বাঘা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম সানোয়ার হোসেন বলেন, স্কুলের আঙিনায় পানি উঠে যাওয়ায় আমরা এর মধ্যে ১১টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামসুল হক জানান, বন্যায় জেলায় ১০২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবই চরাঞ্চলের ফসল। এর মধ্যে মাস কলাইয়ের ডাল বেশি।

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, জেলার পবা, গোদাগাড়ী ও বাঘা উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

আরো  পড়ুনঃ শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক

এর মধ্যে পবার মধ্যচরের ৩৬৫টি পরিবারের বাড়িঘর বন্যায় তলিয়ে গেছে। আর গোদাগাড়ীতে ৫৫ পরিবার ও বাঘায় এক হাজার ৫৮৬ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

এদের মধ্যে ৯০৪ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৪৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যেকোনও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।