বন্ধ হয়ে গেল শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন

বন্ধ হয়ে গেল শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন
জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন

শায়েস্তাগঞ্জের জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করা রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মিটার টেম্পারিং এর সন্দেহে জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডডি বিভাগ অভিযান চালিয়ে মিটার নিয়ে গেলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এই ফিলিং স্টেশনের অংশীদারদের বিরোধকে কেন্দ্র করে গাজীউর রহমানের বিরুদ্ধে অপর দুই অংশীদার আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত প্রদান করলে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে এই মিটার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কতৃপক্ষ।

আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম গত ২০ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত দেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, গাজীউর রহমান তাদের সাথে প্রতারনা করেছেন। এই প্রতারনার বিষয়ে স্থানীয় এমপি সালিশ করলে গাজীউর রহমান তার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার ও মামলা দায়ের করে।

আবেদনে তারা আবারও টেম্পারিং এর আশংকা করেন। পাশাপাশি তাদের বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান ২৫ নভেম্বর জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে জিএস ব্রাদার্স এর ম্যানেজার জসিম উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে সে জানায় সিলেট এবং হবিগঞ্জ থেকে লোকজন এসে মিটার নিয়ে গেছে। কি কারনে নিয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি।

দরখাস্তকারী আবুল কালাম জানান, ইতোপূর্বে গাজীউর রহমান প্রতারনামূলকভাবে মিটার টেম্পারিং করে অনৈতিক মুনাফ অর্জন করে। পরে ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে পুণরায় সংযোগ নেয়া হয়। টেম্পারিং করে অতিরিক্ত মুনাফা গাজীউর রহমান নিলেও জরিমানার অংশ তাদের আয়ের সাথে সমন্বয় দেখানো হয়।

জালালাবাদ গ্যাস টি এন্ড ডি সিস্টেম লি. হবিগঞ্জের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম খানকে ফোন করলে তিনি জানান, আমি এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোন নিউজ দিতে পারব না। কোম্পানী সচিব এর সাথে আলাপ করতে পারেন।

কোম্পানী সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এস এম আসাদুল হক জানান, তিনি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছেন। বিষয়টি তার জানা নেই।

জালালাবাদ গ্যাস এর উপ-মহাব্যবস্থাপক রমেন্দ্র কুমার সিংহ মিটার উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্যাস আইন ২০১০ এ আছে কেউ অনুমোদনের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে তার জেল জরিমানা হবে। জিএস ব্রাদার্স সিএনজির পার্টনারদের মধ্যে বিরোধ আছে। তারা মন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অভিযান পরিচালনা করে মিটার জব্দ করেছি। এখানে গাজীউর রহমানের দুই পার্টনার আবুল কালাম ও সামছুল ইসলাম দরখাস্তে বলেছেন, এখানে গ্যাস ব্যবহারে অনিয়ম হয়। এর আগেও এখানে অনিয়মের জন্য মিটার জব্দ করা হলে মালিক পক্ষ জরিমানা দিয়ে পুণঃ সংযোগ গ্রহণ করেন।

তিরি আরও জানান, আমরা মিটার নিয়ে এসেছি। এখন মালিক পক্ষকে পরীক্ষার দিন তারিখ নির্ধারন করে তাদের উপস্থিস্থিতে মিটার পরীক্ষা করা হবে। মিটারে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও অংশীদারদের বিরোধ নিস্পত্তি না হলে এখানে যেহেতু বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে তাই সেটি বন্ধ রাখা হবে।