৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৪৭

জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

বানিয়াচংয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের তাম্বূলিটুলা গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদক(ইয়াবা) ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪টি ইউনিয়নে এই মাদকের রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে এক গডফাদার এর সিন্ডিকেট টিম।
তার টিমে রয়েছে অন্তত ১০/১৫জন ব্যবসায়ী।
এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানাযায় উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের এক মাদক(ইয়াবা)সম্রাট তার নিজ বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্ল্যাক মেইল করার টার্গেট করে চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে তার মাদকের ব্যবসা।
আর তার ব্যবসায় নিজের স্রী ও শশুর বাড়ির লোকজনও সহযোগীতা করে যাওয়ার খবর পাওয়া যায় বিশেষ একটি সূত্রে।

এমনকি এই মাদক সম্রাটকে ব্যবসার শেল্টার দিচ্ছে এলাকার কিছু নামধারী নেতা ও প্রবাসে থাকা মাস্টার মাইন্ডের আরেক বড় ভাই।
অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
অন্যদিকে এই মাদক সম্রাটের বিষয়টি,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনও এসব তথ্যর কথা স্বীকার করেছেন।
এমনকি এই গড ফাদারসহ তার সকল অনুসারী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের কাছ থেকে তার ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে।
তারা এসব অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের তথ্য সূত্রের উপর তদন্ত সাপেক্ষে ও সত্যতা নিশ্চিত হয়েই তারা তাদের বিশেষ অভিযান গুলো পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলেও সূত্রে জানাযায়।
এদিকে অপরাধ নির্মূলে বাংলাদেশ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিকতায় বানিয়াচং থানা পুলিশও তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

২৪জুলাই সোমবার দিবাগত রাতে বানিয়াচং থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এর নেতৃত্বে উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের তাম্বলীটুলা গ্রামে এস,আই সন্তুষ,এস,আই স্বপন সরকারসহ একদল পুলিশ ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী মনির(৩৫)কে ৫৩পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।
সে মৃত ফয়জুর রহমানের পুত্র।
এসময় সাথে থাকা সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ারও খবর পাওয়া যায়।

পুলিশ মনির গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২৫জুলাই(মঙ্গলবার) ইয়াবা ব্যবসায়ী মনিরকে হবিগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীসহ চিহ্নিত অপরাধীদের নজরদারীতে রাখার বিষয়টিও থানা সূত্রে জানাযায়।
তারা এসব অপরাধ নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান,নবাগত অফিসার ইনচার্জ(ওসি)
মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।

অপরদিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ভিতরে ৪টি ইউনিয়নে ১০/১৫জন মিলে মাদক(ইয়াবা)ব্যবসার সত্যতা পাওয়া যায় অনুসন্ধানকালে।

বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দত্তপাড়া মহল্লার আব্দুল হক মিয়ার পুত্র সাইদুল হক(৩৮)।
এই মাদকের ব্যবসার জন্য তার বাড়িতে সিসি স্থাপন করে এবং নিজ মোবাইলে আ্যাপসের মাধ্যমে কালেকশন করে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাড়িতে নতুন করে ঘরে তুলেছে ছাদ দিয়ে বিল্ডিং।
এবং ছোট্ট এক ভাইকে পাঠিয়েছে প্রবাসে।
এমনকি তার এই ব্যাবসায় নিজের স্রী ও শশুর বাড়ির ভায়রা ভাইয়েরা সহযোগীতা করে যাচ্ছে বলে জানাযায়।
এই ইয়াবা সম্রাট সাইদুল হক শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ৯,
হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ,নবীগঞ্জ থানা,বানিয়াচং থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ(ইয়াবা)বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৯টি মামলা।
অথচ এসব মামলা থেকে জামিনে বের হয়েই যেই সেই এই মাদক সম্রাট।
কিছুদিন পূর্বে ৩নং ইউপির জাতুকর্ন পাড়া এলাকার তার প্রবাসী ভাই ফারুকের এগ্রো ফার্ম খামার থেকে ফারুকসহ সাইদুলকে গ্রেফতার করেছিলো থানা পুলিশ।
পরে চুরির মোবাইল কেনা বেচার অপরাধে মামলা দেখিয়ে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছিল।

এই প্রবাসী মোহাম্মদ ফারুক মিয়ার খামারেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সাইদুলকে গোপন আস্তানায় রেখে মাদক ব্যবসাসহ তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে যেতো।
পরে প্রবাসী ফারুক জামিনে এসে বিদেশ চলে যায়।
এবং সেখান থেকে এই সাইদুল হকরে টাকা পয়সার যোগান দিয়ে এই মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আর বিদেশ থেকে ফারুক এই মাদকের ব্যবসার কলকাঠি নাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এই ইয়াবার সম্রাট সাইদুল হকের নেতৃত্বে ৪টি ইউনিয়নে রয়েছে ১০/১৫জনের নতুন পুরাতন মাদক(ইয়াবা) ব্যবসায়ী।
তারা পুরো বানিয়াচং উপজেলা সদরে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে সকল ব্যবসায়ীরা চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে ব্যবসা।
আর এতে করে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ।
তেমনি বাড়ছে এলাকায় চুরি,ছিনতাইসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড।
তাই বানিয়াচংয়ের সচেতন মহলের জোরদাবী হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকটে,এই বিষয়টি যেন গুরুত্ব সহকারে দেখেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে যেন এসব ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন।
এবং বানিয়াচং উপজেলাবাসীকে যেন মাদক মুক্ত একটি উপজেলা হিসাবে উপহার দেন।