বাহুবলের মন্দিরে রহস্যজনক চুরি

বাহুবলের মন্দিরে রহস্যজনক চুরি

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের জয়পুরে অবস্থিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মামারবাড়ি শ্রীশ্রী শচী অঙ্গন ধাম মন্দিরে রহস্যজনক চুরি হয়েছে। মহাপ্রভুর মা শ্রীশ্রী শচীমাতার অঙ্গ থেকে সকল স্বর্ণের অলঙ্কার, মহাপ্রভুর অঙ্গের সকল অলঙ্কারসহ পূজার উপকরণ এবং তামা-কাঁসার বাসন চোরেরা নিয়ে গেছে।

এর ফলে জন্মাষ্টমী উৎসব বাতিল করা হয়েছে। জন্মাষ্টমীর আগের রাতে (১০ আগস্ট দিবাগত রাত) এই তীর্থক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মন্দিরের তত্তাবধায়ক শ্রী অরুণ দেব বাদী হয়ে বাহুবল থানায় মামলা করেছেন। এতে পুলিশ ১ জনকে আটক করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জয়পুরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মামারবাড়ি হওয়ায় মন্দিরে শ্রীশ্রী শচীমায়ের কোলে শিশু নিমাইয়ের বিগ্রহ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিমাই পরবর্তী জীবনে সন্ন্যাসব্রত নিলে নাম হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। সন্ন্যাস নেয়ার বহু পরে পরম বৈষ্ণব ড.মহানামব্রত ব্রহ্মচারিজি মহাপ্রভুর মামারবাড়ি আবিষ্কার কে রন এবং এখানের মন্দিরের শিলান্যাস করেন। সেই থেকে মন্দির ও এই ভূমি তীর্থক্ষেত্রের রুপ নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ১০ আগস্ট রাতে চোরেরা মন্দিরের কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙ্গে মন্দিরে ঢুকে। নানা জিনিসপত্র নেয়ার পাশাপাশি তারা মহাপ্রভুকে শচীমায়ের কোল থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। জন্মাষ্টমীর আগের রাতে রহস্যজনক চুরির কারণে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এটি শুধু চুরি না অন্য কিছু না সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর প্রচেষ্টা কি না তার কারণ খূজে বের করতে পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।

মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রী অরুণ দেব বলেছেন, করোনার কারণে ছোট পরিসরে এবার জন্মাষ্টমীর আয়োজন ছিল। কিন্তু চুরির কারণে ছোট পরিসরে আয়োজন করা জন্মাষ্টমী উৎসবও বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বাহুবল থানার ওসি কামরুজ্জামান এবং হবিগঞ্জের পুলিশ মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে পুলিশের এসপি দেখেন, মন্দিরের কিছু অংশে সীমানা প্রাচীর নেই। দ্রুত এই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে ১২ আগস্ট বুধবার থেকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেছেন, এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

বাহুবল থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেছেন, সন্দেহজনকভাবে একজনকে আটক করা হয়েছে। শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গনে রহস্যজনক চুরির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বাহুবলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা তালুকদার।

তিনি বলেছেন, জন্মাষ্টমীর দিনে এমন খবর শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেছে। এটি আদৌ চুরি না এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খূঁজে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধাম মন্দিরে চুরি ও বিগ্রহকে অবমাননা করায় ভারত সফররত স্থানীয় সাংসদ মিলাদ গাজী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দিল্লি থেকেই তিনি এ ঘটনা শুনে তার একান্ত সচিবকে নির্দেশ দেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার জন্য। পরে একান্ত সচিব বাহুবলের যুবলীগ নেতা হুমায়ুন আহমেদ জাবেদকে নিয়ে মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে সাংসদ বাহুবল থানা পুলিশেক দ্রুত অপরাধীকে ধরার নির্দেশ দেন। তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মুদ্দুত আলী।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাহুবল শাখার সভাপতি নীহার দেব একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধাম মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনিও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আসামী ধরার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।

বিকেলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জগদীশ মোদক ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধি দল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মামারবাড়ি শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধাম মন্দির পরিদর্শন করে।

এসময় তারা রহস্যজনক চুরির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অপরাধীকে ধরার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এরআগে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বাহুবল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিখিল সাহাও শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন মন্দির পরিদর্শন করেন।