বাহুবলে প্রেমিক ও বন্ধু মিলে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষনের অভিযোগ

0

টিপু সুলতান জাহাঙ্গীর, বাহুবলঃ হবিগঞ্জের বাহুবলের পল্লীতে বই মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক স্কুল ছাত্রীকে গনধর্ষন করেছে কথিত প্রেমিক ও তার সহযোগি চার বন্ধু। দিন ভর ধর্ষণ শেষে বিকালে বাড়ির পাশের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে যায় ধর্ষনকারীরা

গত (২১ ফেব্রুয়ারী) বাহুবল বইমেলার শেষ দিনে এ ঘটনাটি ঘটে। অসহায় স্কুল ছাত্রীর পরিবার ধর্ষণকালীদের হুমকি আর ইজ্জ্বতের ভয়ে দামাচাপা দিতে চেয়েছিল। এদিকে ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বিকালে বাহুবল হাসপাতাল পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য সে স্কুল গেটে আসে। এসময় সিএনজি নিয়ে হাজির হয় কথিত প্রেমিক আল মামুন। সে জনৈক স্কুল ছাত্রীকে বই মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এসময় সরল মনে প্রেমিক মামুনের কথা বিশ্বাস করে তার ভাড়া করে নিয়ে আসা রকিব মিয়া নামের সিএনজি চালকের সিএনজি অটোরিক্সায় উঠে বই মেলায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়।

এসময় সিএনজি বাহুবলের দিকে না গিয়ে পুটিজুরী পুলিশ ফাঁড়ির রাস্তা দিয়ে নিয়ে যায় প্রেমিক মামুন। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সিএনজিতে উঠে মামুনের বন্ধু তোফায়েল ও শিপন। এসময় ঐ স্কুল ছাত্রী চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে মামুন ও তার বন্ধুরা স্কুল ছাত্রীর মুখ বন্ধ করে দেয়। পরে ঐ স্কুলছাত্রীকে বৃন্দাবন বাগানের পূর্ব পাশে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে বাগান পাহারাদার সহ পালাক্রমে গনধর্ষন করে তারা।

ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী জানায়, ধর্ষণকারীরা হলেন যাদবপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া, মামুনের বন্ধু বাঘেরকাল গ্রামের সালাম মিয়ার ছেলে তোফায়েল ও মামুনের আরেক বন্ধু সিকরা টিলা গ্রামের সালাউদ্দীনের ছেলে শিপন মিয়া, মামুনের বন্ধু তোফায়েলের বোন জামাই বাগান পাহারাদার মিলে ঐ স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।এসময় স্কুল ছাত্রী তাদের হাত থেকে বাঁচতে সুর চিৎকার করলেও তাকে বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। এ অবস্থায় জনক এই স্কুল ছাত্রী অসহায় হয়ে পড়ে । এর কিছুক্ষণ পরই তাদের ভাড়া করা অন্য একটি সিএনজি গিয়ে সবাইকে নিয়ে আসে।

পরে স্কুল ছাত্রীকে তার গ্রামের রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। এঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুটিজুরী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানু চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি পরীক্ষার ডিউটিতে আছি।

এবিষয়ে স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি শাহ আব্দুল আহাদ বলেন, বাজারে শুনেছি এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি।

স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ও বর্তমান ওয়ার্ড মেম্বার আয়মন আলী বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ছাত্রী হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিসাধীন অবস্থায় সে এ প্রতিনিধিকে জানায়, ২১ শে ফেব্রুয়ারীর দিন ভোরে সে স্কুলে যায়, এ্যাসেম্বলি শেষ করে সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি আসার পথে আল মামুন তাকে জোড়পূর্বক পাহাড়ে নিয়ে।

মামলার প্রস্তুতি জানতে চাইলে সে জানায়, থানা থেকে পুলিশ আসছিল, আমার কথা রেকর্ড করে নিয়ে গেছেন।

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাসুক আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আল মামুন নামের ছেলের সাথে প্রেম আছে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।