বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলীর বদলী নাটক

0

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বদলী নাটক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড, অনৈতিক চলাফেরা, অফিসে প্রয়োজনীয় সময়ে না পাওয়া, নিজ অফিসের স্টাফদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অন্যান্য অফিসের স্টাফ কর্মকর্তাদের সাথে অমার্জিত ব্যবহার, বাহুবলের উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়া, ঠিকাদারগণের সাথে দুর্ব্যবহার, মাতাল অবস্থায় থাকা, উচ্চ শব্দে গান বাজনা বাজানো ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে তিনি প্রকৌশল অফিসের হিসাব রক্ষক মীর মাহবুবুল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। নিজ অফিসের সার্ভেয়ার ওয়াহিদুজ্জামান দুলালকে অফিস কক্ষে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখে প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ তার কয়েক বহিরাগত নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। এসময় স্থানীয় সাংবাদিকরাও অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ দেখে হতবম্ব হন। এতে অনুমান করা হয় ভেতরে হয়ত কিছু একটা ঘটছে। এর কিছুক্ষণ পরই প্রকৌশলী সহ বহিরাগত কয়েক যুবক বেরিয়ে যান। এর পরই সার্ভেয়ার দুলালকে তার কয়েক সহকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এসব অনিয়মের রেকর্ড সৃষ্টিকারী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গত ২১ এপ্রিল এলজিইডি অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে (স্মারক-৩০২১, তাং ২১/৪/১৯) বদলীর আদেশ দেয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী ময়মনসিংহ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার কথা।

বাহুবলে ৮ মাসেও হস্তান্তর হয়নি মুক্তিযোদ্ধা ভবন

কিন্তু হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ আবু জাকির সিকান্দর তাকে (স্মারক-৭০১, তাং ৫/৫/১৯ ইং) ছাড়পত্র দেন। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে বদলীকৃত ব্যক্তি বর্তমান কর্মস্থলের ছাড়পত্র পেলে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করারই কথা। কিন্তু মহিউদ্দিনের বেলায় ঘটল এর ব্যতিক্রম। ছাড়পত্র দেয়ার পরদিন (স্মারক-৩৩৫০, তাং ৬/৫/১৯ ইং) আবারো প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ পূর্বের বদলীর আদেশ পরিবর্তন করে তাকে মৌলভী বাজার জেলা কমলগঞ্জ উপজেলায় বদলীর নতুন আদেশ দেন। তবে এ আদেশ আগামী ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। একেই বলে ‘বদলী নাটক’।

এদিকে ইতিপূর্বে হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ আবু জাকির সিকান্দর গত এপ্রিল মাসে (স্মারক-৫৯০, তাং ১০/৪/১৯) বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ‘দায়িত্বহীনতা, কর্তব্য কাজে অবহেলা’র জন্য কৈফিয়ত তলব করেন। এই কারণ দর্শাও নোটিশেও উঠে আসে নানা অনিয়ম ও উন্নয়ন কাজে অব্যবস্থাপনা ও স্থবিরতা। এত কিছুর পরও বিধি লংঘন করে বদলীর আদেশ ও কর্মস্থল ছাড়পত্রের ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই কর্মে যোগদান না করেই আবার বদলীর আদেশ বাতিল হয় কিভাবে? তা কি বিধি পরিপন্থী নয়? এ নিয়ে চলছে বাহুবলে নানা সমালোচনা।