টানা তিন মাস যাবৎ বেতন না পাওয়ায় স্ট্রোক করেছেন সরকারী কর্মকর্তা

টানা তিন মাস যাবৎ বেতন না পাওয়ায় স্ট্রোক করেছেন সরকারী কর্মকর্তা

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ টানা তিন মাস যাবৎ বেতন না পাওয়ায় স্ট্রোক করেছেন সরকারী কর্মকর্তা। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রকেশল অফিসের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ড টানা তিন মাস যাবৎ বেতন না পাওয়ায় স্ট্রোক করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। দুটি ছোট বাবুকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছিল তার।

বৃহস্পতিবার ( ২ মে বিকাল) সাড়ে তিনটায় উপজেলা উপজেলা প্রকেশল অফিসে দায়িত্বপালন করা কালীন সময় হঠাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে লুঠে পড়েন। তাৎক্ষনিক সহকর্মীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট শরীফ হোসেন টানা তিন বাস যবৎ বেতন না পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। সর্বশেষ আজ সকালে তার ছোট বাবু দুধ নিয়ে বাসায় যাওয়ার কথা বললে তিনি টাকা নেই বলে ছোট বাবুকে বুঝিয়ে অফিসে চলে আসেন। বাবুকে দুধ তথা বাসা ভাড়ার টাকা কোথা থেকে ম্যানেজ করবেন এই টেনশনেই তিনি স্ট্রোক করেন।

শরীফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। সে ৬ বছর যাবৎ বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত।

৮ মাসেও হস্তান্তর হয়নি মুক্তিযোদ্ধা ভবন

সিলেট হাসপাতালে যাওয়ার পথে এ্যাম্বুলেন্স থেকে তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী তিন মাস যাবৎ বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। তার স্বামীর বদলী হয়েছে নেত্রকোনায়। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী দুই মাস যাবৎ তার এলপিসি না দেওয়ায় সে নতুন করে বেতন তুলতে পারছেন না। তার পুষ্প ও শ্রদ্ধা নামের দুটি অবুঝ সন্তার রয়েছে। তিনি মাস তার বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে বাসা ভাড়া ও খাবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার ছোট বাবুনী শ্রদ্ধা বাবার কাছে দুই দিন ধরে দুধ আনতে বলছে। তার বাবার হাতে টাকা না থাকায় দুধ আনতে পারেনি। রাতে যখন সে খালি হাতে বাসায় ফিরে তখন বাবুটা অনেক কেঁদে রাতে শুয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও দুধ নিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য বলে সে। তখন শরীফ তা চোঁখের পানি ছেড়ে দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে চলে যায়।

উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলী করা হলেও তিনি বাহুবল চাড়ছেন না।

এ বাপারে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।