১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:৩০

জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

বিনামূল্যে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন রোগীর সুচিকিৎসা হচ্ছে বাহুবলে জহুরুন্নছা – মতিন ক্লিনিকে

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নে কোর্টআন্দর এলাকায় প্রয়াত দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল বাছিত চেয়ারম্যান বাড়িতে জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিক নামে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গড়ে উঠায় প্রতি সপ্তাহে দুইদিন শতাধিক হতদরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য হয়েছেন ।

এই বিনামূল্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে বাহুবল উপজেলা সহ পার্শবর্তী উপজেলা বিভিন্ন গ্রাম থেকে দরিদ্র নারী-পুরুষ , যুবক -যুবতী , শিশু – কিশোর সুচিকিৎসা নিতে আসছে । স্হানীয়দের কাছে জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিকে সুচিকিৎসার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে । প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয় ক্লিনিকে । প্রতি সপ্তাহে দুইদিন ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগীদেরকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মহিলা বা পুরুষ এমবিবিএস ডাক্তাররা । তবে পুরুষের চেয়ে নারী রোগী খুব বেশী ।

জানা যায় , ২০২০ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিক স্থাপিত হয় । যুক্তরাষ্ট্রের ” নাবিক সেন্টার ফর হিউম্যান প্রকল্পের ” আওতায় অর্থায়নে এবং এদেশে “ডু বেটার ফর দি চিলড্রেনস ( ডিবিসি ) বাস্তবায়নে বাহুবলে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্য বাহী কোর্টআন্দর গ্রামে দেওয়ান সৈয়দ সাহেব বাড়ীতে ” জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিকে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীর ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে । উক্ত ক্লিনিকে শুক্রবার ও শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , ক্লিনিকে অসংখ্য রোগী এবং ক্লিনিকে যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি করেছেন ডু বেটার ফর দি চিলড্রেনস ( ডিবিসি ) নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক মোঃ নাজমুল ইসলাম । এছাড়া প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম ঢাকা ডিবিসি থেকে ওষুধ নিয়ে জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিকে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেওয়ান সৈয়দ মাহমুদুল হাসান এর তত্বাবধানে । তবে প্রতি সপ্তাহে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রোগীদের নাম – ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর রেজিস্ট্রার খাতা মধ্যে লিপিবদ্ধ করে রাখে ।

IMG 20230718 WA0009

উক্ত লিপিবদ্ধ নাম তালিকা অনুযায়ী ক্লিনিকে শুক্রবার ও শনিবার চিকিৎসকরা রোগী দেখেন এবং চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপএ লিখে দেওয়া রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন ক্লিনিকের প্রকল্প সহকারী দেওয়ান সৈয়দা ফাতেমা তুজ জোহরা , দেওয়ান সৈয়দা সালমা বিলা। ঐতিহ্য বাহী কোর্ট আন্দর গ্রামের দেওয়ান সৈয়দ সাহেব বাড়ী স্হায়ীবাসিন্দা এবং উপজেলার লাকুড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইনক এর সভাপতি ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা , আজীবন সদস্য দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মোতাচ্ছির মনজু সর্ব দিক দিয়ে জহুরুন্নেছা – মতিন ক্লিনিকে খোঁজ খবর রাখেন । অপর দিকে দেওয়ান সৈয়দ সাহেব বাড়ী স্হায়ীবাসিন্দা এবং যুক্ত রাষ্ট্র প্রফেসর তুলেন ইউনিভার্সিটি ( স্কুল অব মেডিসিন ) বিভাগের প্রফেসর ড. দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল মজিদ সহ পরিবারের সকল সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে জহুরুন্নেছা – মতিন নামে ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন । ক্লিনিকের চিকিৎসক এ প্রতিনিধিকে বলেন , প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে শতাধিক হতদরিদ্র রোগী সেবা নিতে আসে কিন্তু কোর্টআন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মুখ থেকে ক্লিনিক পর্যন্ত প্রায় ৭ শ গজ রাস্তার জন্য খুব কষ্ট করতে হচ্ছে জটিল রোগীরা । নানা সমস্যা কারণে এ রাস্তা দিয়ে রোগীর গাড়ি আসতে পারে না ।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাবিক সেন্টার ফর হিউম্যান প্রকল্পের অর্থায়নে আলট্রাসন পরীক্ষা মেশিন , এক্স-রে মেশিন , প্যাথলজি মেশিন , ডায়াবেটিস পরীক্ষা মেশিন , রক্ত – প্রসাব পরীক্ষা মেশিন প্রয়োজন । এ ক্লিনিকে নারী ডেলিভারি রোগী খুব বেশী । এসব যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে রোগীরা অন্যএ পরীক্ষা করতে হচ্ছে ।

স্হানীয় কোর্টআন্দর গ্রামের বৃদ্ধ মোঃ জাফর আলী এ প্রতিনিধিকে বলেন , দেওয়ান সৈয়দ সাহেব বাড়ী লোকজনরা প্রতি বছর হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র , ঈদ সামগ্রী , কোরবানী মাংস বিতরণ সহ অনেক সাহায্য সহায়তা করে থাকে । এ গ্রামে ক্লিনিক হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে শতাধিক হতদরিদ্ররা জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে উপকার হচ্ছে । এমনকি আমরা চিকিৎসা নিয়ে শান্তি পেয়েছি । আমার শ্বাস কষ্ট রোগ ছিল কিন্তু এই ক্লিনিকের চিকিৎসা ধারা আরোগ্য হয়েছি ।