কমলগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমির ধান কর্তন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মৌরসী সম্পত্তি থেকে জোরপূর্বক প্রতিপক্ষ জমির ধান কর্তন করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অর্জুন দেবনাথ নিধু।

কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুমড়াকাপন এলাকার বাসিন্দা অর্জুন দেবনাথ নিধু বলেন, কুমড়াকাপন মৌজার এস,এ, ৪৪১২, ৪৪১৩, ৪৫৮৫, ৪৪২১, ৪৪১৪ ও ৪৪১৬ দাগভূক্ত ২ একর ২১ শতক ভূমির মৌরসীসূত্রে তিনিসহ ৬ ভাই মালিক। স্থানীয় প্রভাবশালী মজিদ বক্ত গং মৌখিক খরিদসুত্রে মালিক দাবী করে এস এ রেকর্ডীয় মালিক মৃত কামিনী নাথ ও হরেন্দ্র মোহন নাথকে পক্ষ করে মৌলভীবাজার জজ আদালতে একটি হয়রানীমূলক ০৬/২০১৭ ইং স্বত্ব মামলা এবং প্রবাসী ২ ভাই এবং প্রতিবন্ধী ১ ভাইসহ ৬ জনকে আসামী করে আদালতে ৮০/১৮ নং ফৌজদারী মামলা দায়ের করে হয়রানী করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিজ সম্পদ রক্ষার্থে কমলগঞ্জ জজ আদালতে তার দায়েরকৃত ৭০/২০১৮ নং স্বত্ব মামলাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় প্রভাবশালী চক্রটি জমির পাকা ধান কেটে নেয়ার হুমকী দিলে আদালত কমলগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে গত ২০শে নভেম্বর‘১৮ উল্লেখিত ভূমিতে ১৪৪ ধারা জারী করেন। গত ৪ ডিসেম্বর তারিখে প্রতিপক্ষ ধানকাটার প্রস্ততির বিষয়টি অবগত করে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমানকে জানালে তৎক্ষনাৎ বিহিত ব্যবস্থাগ্্রহনের জন্য এস আই ফরিদ মিয়াকে দায়িত্ব দেন।

গত ৭ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ জমির ধান কাটছে শুনে তিনি ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি এস আই ফরিদ মিয়াকে অবগত করার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেননি।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও থানা পুলিশের এহেন ভূমিকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই আজ আমার জানমাল ও সম্পত্তির কোন নিরাপত্তা নেই। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে যেকোন মুহুর্তে আমার জানমাল ও সম্পদের ক্ষতি করতে পারে।

অর্জুন দেব নাথ নিধু, তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় হয়রাণী ও ফসল লুটের সুবিচারসহ তার সম্পদ ও জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী সংবাদ সম্মেলনে জানান।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও জায়গাটি মজিদ বক্তের দখলে এবং তিনি ধান লাগিয়েছেন সেহেতু তিনি ধান কাটতে পারেন। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে এজন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অন্যদিকে এস আই ফরিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তার জানা নেই।