সুনামগঞ্জে নৌকার সমর্থকরা মারধরের শিকার

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নৌকা প্রতীকের ব্যানার টানানোর কারণে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের হাতে নৌকার সমর্থকরা মারধরের শিকার হয়েছেন।

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের বাসিন্দা নৌকার সমর্থক মো. আলীম উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির সহোদর বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোকনের লোকজনের হাতে বেধরক মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে উত্তর বীর গ্রামের চায়ের স্টলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত আলীম উদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১০ মার্চ ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ মুরাদ উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি লোকজন দিয়ে তার সমর্থক আলীম উদ্দিনের চায়ের স্টলের সামনে একটি নৌকা প্রতীকের ব্যানার টাঙিয়ে দেন। এ নিয়ে মনঃক্ষুণ্য হন সরকার দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জোম হোসেন রতন এমপির সহোদর চেয়ারম্যান পদের বিদ্রোহী প্রাথীর্ মোজাম্মেল হোসেন রোকনের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক উত্তর বীর গ্রামের সামছু মিয়া।

নৌকার ব্যানার টাঙানো নিয়ে আলীম উদ্দিন ও সামছু মিয়ার কথাকাটাকাটি হয়। সামছু মিয়া তার আত্মীয়স্বজনকে ওই চায়ের স্টলের সামনে ডেকে এনে আলীম উদ্দিনকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আলীম উদ্দিনের মা হাবিবা আক্তার ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার সেখানে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আলীম উদ্দিন, তার স্ত্রী ও মাকে রক্ষা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের বড়ভাই আওয়ামীলীগের দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির প্রভাব খাটিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রোকন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীও ভরাডুবি ঘটিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নৌকার বিপরীতে তার পক্ষে মাঠে কাজ করতে, তার ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিতে নানামুখী অপতৎরতা, চাঁপ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেই যাচ্ছেন।

এ ব্যাপার বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন রোকনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না না কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মপাশা থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।