আ’লীগ টের পাবে জনগণের কত রাগ: রেজা কিবরিয়া

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠতে শুরু করেছে।

তবে ভোটাররা অনেকটাই নীরব রয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে তেমন কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। আবার ভিন্ন চিত্রও আছে অনেক এলাকায়। সেসব স্থানে নির্বাচনী ঝড় তুলছেন ভোটাররা। হিসাব কষতে শুরু করেছেন কে হচ্ছেন এ আসনের এবারের এমপি।

তবে যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন এমন প্রার্থীকেই তারা জয়ী করতে চান বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

জেলার অন্যান্য আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তাদের দাবি অতীতে অনেক উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছে এ দু’টি উপজেলা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ দেদার সভা-সমাবেশ করে চলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করে চলেছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া প্রচারণায় কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

রাখঢাক না করে নীরবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। বাড়ি, বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন ড. রেজা কিবরিয়া নিজেও।

বেশ কয়েক দিন ধরে অভিমান করে থাকা মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার মান ভেঙেছে। তার নেতৃত্বেই অবশেষে বিশাল কর্মী সমাবেশ করে ধানের শীষে পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেয়া হয়।

আর ড. রেজা কিবরিয়াও তার নেতৃত্বেই নির্বাচন পরিচালনা হবে বলে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই হিসাব পাল্টাতে শুরু করেছে। সব বিভেদ ভুলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।

অন্যদিকে নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান আতিক। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বাসদ মনোনীত চৌধুরী ফয়সল শোয়েব (মই), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত মো. নূরুল হক (গামছা) ও জুবায়ের আহমেদ (মোমবাতি)।

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান জানান, এ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এখানে বিগত দিনে ৫ বার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ের মাসে আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ বলেন, আমি বিগত ১০ বছর ধরে নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ধানের শীষের পক্ষে আমরা সবাই একাট্টা। এ আসনে ধানের শীষকে জয়ী করতে যা করণীয় আমরা তাই করব। এটিই আমাদের আন্দোলন। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা বুঝে গেছে তাদের নিশ্চিত পরাজয় হবে। তাই তারা নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। বিশ্ববাসী দেখছে, তারা মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে। ৩০ ডিসেম্বর টের পাবে জনগণের কত রাগ। ব্যালটের মাধ্যমে মানুষ তাদের এমন আচরণের জবাব দেবে।

আশরাফুল হাসান তপু নামে এক তরুণ ভোটার বলেন, আমি এবারের নির্বাচনে প্রথম ভোট প্রয়োগ করব। আশা করি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারব।

তানভির চৌধুরী তনু নামে আরেক নতুন ভোটার জানান, বেকারত্ব দূর করতে যে প্রার্থী কাজ করবে আমার প্রথম ভোট আমি তাকেই দিতে চাই।