শহরের নোয়াহাটি পয়েন্টে পাওয়া গেল এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে

কে. এম. আবু বকর || ক্রাইম রিপোর্টার (স্পেশাল), হবিগঞ্জ নিউজ

পলাশ সরকার ও সানি রায় নামে দুই বন্ধু গত ০২/০৩/২০২০ ইং রোজ সোমবার হবিগঞ্জ শহরের বাইপাস রোড দিয়ে হেঁটে নোয়াবাদ যাচ্ছিল। হঠাৎ তারা নোয়াবাদ পয়েন্টের কাছে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সেন্সলেস অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পায়। তখন রাত বাজে প্রায় ১২ টা । মানবতার টানে ও কৌতুহলী হয়ে তারা সামনে এগিয়ে যায় লোকটিকে সহযোগিতা করার জন্য। চারপাশ থেকে তখন আরও লোকজন এসে ভীড় জমায়।

পলাশ ও সানি দুই বন্ধু হবিগঞ্জ নিউজকে জানায়, শহরের রাজনগর এলাকায় একটি ম্যাচে থেকে তারা পড়াশুনা করে। তাদের সাথে তখন আরেকজন ছিল। কে ছিল জানতে চাইলে পলাশ সরকার বলে, সে তার ভাতিজাকে নিয়ে তাদের বাড়িতে (নোয়াহাটি) যাচ্ছিল।

তাছাড়াও এত রাতে হেঁটে নোয়াহাটি যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা জানায় রাতে কোন রিক্সা না পাওয়ায় তারা হেঁটে গল্প করতে করতে যাচ্ছিল।

এছাড়াও হবিগঞ্জ নিউজ এর ক্রাইম রিপোর্টার পলাশ সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তারা কিছুক্ষণ পর চোখ খুলতে দেখতে পায়। তখন তারা আরও লক্ষ্য করে যে, লোকটি খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। তাছাড়াও তারা লোকটির পকেট গুলো কাটা দেখতে পায় । এতে তারা ধারণা করে বুঝতে পারে যে লোকটি অজ্ঞান পার্টি এবং চিনতাইকারীর কবলে পড়েছিল।

সন্দেহ হওয়া মাত্র তারা হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি (অফিসার ইন চার্জ) এর সাথে তাৎক্ষণিক ফোনে যোগাযোগ করে। যোগাযোগ করার পর ওসি তাদেরকে অজ্ঞাত লোকটিকে নিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা বলেন। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন তাদেরকে। তারা ওসির কথামতো লোকটিকে নিয়ে সদর হাসপালে পৌঁছায়।

পথের মধ্যে হাসপাতালে যেতে যেতে তারা লোকটির নাম জিজ্ঞাসা করলে লোকটি তার নাম “গোপাল বনিক” বলে জানায় পলাশ ও তার বন্ধুকে।

এছাড়াও তারা তার বাড়ি ও ঠিকানা জানতে চাইলে সে প্রথমে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এবং পরে সিলেটের বাঘবাড়িতে বলে জানায়।

পরবর্তীতে তারা লোকটিকে নিয়ে আনুমানিক ১২.২০ মিনিটের দিকে সদর হাসপাতালে পৌঁছানোর পর পুলিশের প্রতিনিধি দল অজ্ঞাত লোকটিকে গ্রহণ করে পলাশ সরকার ও তার বন্ধুদের কাছ থেকে সবকিছু জেনে তাদের বিদায় দেয়।