২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:০৭

জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

শায়েস্তাগঞ্জ রেলের জায়গা লিজের নামে কোটি টাকার বাণিজ্য

রেলওয়ে পূর্বানচলের আখাউড়া – সিলেট সেকশনে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দাউদ নগর বাজার এলাকায় কয়েকটি কোটি টাকা মূল্যবান পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি বন্দোবস্তের নামে অবৈধ কাগজ সৃজন করে দখলকৃত ৪৮ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

অনুসন্ধানে জানা যায় , ঐতিহ্যবাহী শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের দাউদ নগর বাজার এলাকায় সদর উপজেলার চরনুর আহম্মদ মৌজার সাবেক ৮৮৮ দাগের প্রায় এক একর ৩৩ শতাংশ রেলওয়ে পরিত্যক্ত ভূমি শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভা দাবী করে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট রিট পিটিশন দায়ের করে তৎকালীন পৌর সভা মেয়র এফ এম আহমেদ অলি ।

উক্ত পরিত্যক্ত রেলওয়ে ৮৮৮ দাগের ভূমি শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভাকে মালিকানাধীন বহাল রেখে পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত স্থিতিবস্থা আদেশ জারি করেন সুপ্রিম ও হাইকোর্টের বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও জাকির হোসেন এর একটি ব্রেঞ্জ। এরপর থেকে রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভূমি শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভা অধীনে ভোগদখল করলে ও সম্প্রতি হাইকোর্টের আদেশ জারি স্থগিতা তথ্য গোপন করে পাঁচজন ব্যক্তির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকাস্থ ভূমি এস্টেট হতে ভূয়া বন্দোবস্ত কাগজ সৃজন করে পৌর মার্কেট দখলকৃত ৪৮ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়কে দোকান কোটা বন্দোবস্ত বরাদ্দের নামে বিভিন্ন কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ।

আর এ চক্রটি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা হিন্দু -বৌদ্ধ- খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শংকর দেব এবং তার সাথে পৌর মার্কেটে ব্যবসায়ী মোঃ ফুল মিয়া , অলি মিয়া , আব্দুর রউফ ও মর্তুজ মিয়া । পৌর মার্কেট কয়েকজন ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায় , শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার ৪৮ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পৌর মার্কেট বেশ কিছু দিন ধরে ব্যবসা করে আসছিল । হঠাৎ রেলওয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা এসে হাইকোর্টের রিট পিটিশন জায়গা ছেড়ে অসংখ্য স্হাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয় ।

বেশ কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতি গ্রস্থ হয় । সংঘবদ্ধ চক্ররা রেলওয়ে ভূমি বন্দোবস্ত লিজ এনে দিবে বলে পৌর মার্কেটের সামনের দোকান থেকে সাড়ে ৩ লাখ এবং পেছনের দোকান থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । উক্ত সংঘবদ্ধ চক্ররা পৌর মার্কেটের রেলওয়ে ভূমি বন্দোবস্ত লিজ আনার স্হায়ী কোনো বৈধতা নেই । শংকর দেব সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন , রেলওয়ে পৌর মার্কেটের জন্য অনেক দৌড়া দৌড়ি করেছি এবং অনেক টাকা খরচ হয়েছে এবং পৌর মার্কেটের রেলওয়ে বন্দোবস্ত লিজের কাগজ আছে । বন্দোবস্ত লিজের কাগজ বৈধ । বন্দোবস্ত লিজ আনতে পাঁচ কোটি টাকা উর্ধে খরচ হয়েছে ।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মার্কেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান , সংঘবদ্ধ চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে ৪৮ জন দখলকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিচ্ছে ।

এ ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে ইস্যু তৈরি করে আদায় করে নিচ্ছে টাকা । সরল বিশ্বাস করে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়েছেন বাধ্য হয়ে । আবার কেউ জায়গা বিক্রি , জমি বন্ধক , সুধের উপর রৃণ গ্রস্ত করে টাকা দিয়েছেন । রেলওয়ে বন্দোবস্ত লিজের কাগজ ৪৮ জনের নামে দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের পাঁচ জনের নামে বন্দোবস্ত নামে লিজ করে এনেছে ।

রেল সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায় , রেলওয়ে ভূমি বন্দোবস্ত লিজ প্রক্রিয়াটাই সম্পূর্ণ ভূয়া । শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভার মেয়র এফ এম আহমেদ অলি বলেন , শংকর দেব , ফুল মিয়া , আব্দুর রউফ , মর্তুজ আলী , অলি মিয়া নামে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পৌর মার্কেট বন্দোবস্ত লিজ কাগজ করে এনেছে বলে লোকের মুখে মুখে শুনা যাচ্ছে কিন্তু সম্পূর্ণ তা ভূয়া । রেলওয়ে এই বন্দোবস্ত লিজ কাগজের অফিসিয়াল কোনো ডকুমেন্টস সংরক্ষিত নেই ।

হাইকোর্টের জারি স্থগিতাদেশ থাকার পর এ ধরনের কোনো রেলওয়ে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া প্রশ্নই আসে না । উচ্চ আদালতের মামলার সূত্রে জানা যায় , ২০০৯ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর সভার দায়ের করা রিট পিটিশনে হাইকোর্টের জারি স্থগিতাদেশ থাকার পর মূল ভবনের ১৬ নং কক্ষে বিষয়টি প্রথম শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০১২ সালের ১১ মার্চ এবং একই সালের ৪ জুন । অপর দিকে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ ও ২ ও ৩ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ৩০ জুলাই । এ ব্যাপারে ৭১ ভবনে ৭নং কক্ষে শুনানি হবে ।