ঢাবিতে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালিত

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালিত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত বিশ্ব হিজাব দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদ, ড. শামসুল আলম, ড. মাসুদ আলম, শেখ ইউসুফ প্রমুখ।

‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’ ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’ ‘হিজাব ইজ মাই কভার’ শ্লোগান ধারণ করে আলোচনা সভা শেষে হিজাবের গুরুত্ব, তাৎপর্য, সৌন্দর্য্য সংবলিত দেয়ালিকাও প্রদর্শন করা হয়। সেই সঙ্গে হিজাব সম্পর্কে হিজাব ব্যবহারকারীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। ঢাবিতে হিজাব দিবসে অংশ নেওয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক বলেন, ‘আমাদের হিজাব ডে পালন করার উদ্দেশ্য হল মানুষের মাঝে এই মেসেজটা দেওয়া যে পোশাকের স্বাধীনতা সকলের প্রাপ্য অধিকার। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের তথা বিশেষ করে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে যেভাবে হেনস্তা বা হেয় করা হয় আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী মুনিরা রহমান তাসফি বলেন, ‘সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি কদর্য দিক। প্রগতিশীলতার নামে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে নারীদের প্রতি হিংস্রতা বাড়ছে। পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি নারীরা যদি শালীন পোশাক বা হিজাব ব্যবহার করে তাহলে এ ধরণের ঘটনাগুলো অনেক কমে যাবে।

শিক্ষার্থী জিন্নাতুন নুর মিতু বলেন, ‘আমরা পারিবারিক বা সামাজিক কোন চাপে হিজাব পড়ি না, বরং বিশ্বব্যাপী নারীর হিজাব পড়ার অধিকার এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব পড়ার কারণে তাদের কোন কাজ করতে সমস্যা হয় না। অন্যদের মত সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ সব কাজে অংশগ্রহণ করছেন তারা।’

ঢাবিতে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালন

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালন করা শুরু হয়। সেই থেকে হাজারো মুসলিম, অমুসলিম নারী হিজাব পরে দিবসটি পালন করেন। বিশ্ব হিজাব দিবস’ উদযাপনের চিন্তাটা প্রথমে আসে নিউইয়র্কের বাসিন্দা নাজমা খান নামে এক নারীর মনে। নাজমা খানের জন্ম বাংলাদেশে হলেও তিনি ১১ বছর বয়স থেকে নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। ফেইসবুক, টূইটারের মতো সামাজিক সোশ্যাল নেটোয়ার্কের মাধমেই এ দিবসটির চেতনা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স, জার্মানির মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও বিশ্ব হিজাব দিবস ১৪০টি দেশে পালিত হয়েছে।