সাত ম্যাচ ছয়টিতে পরাজয় মাহমুদুল্লার খুলনা

0
4

ক্রীয়া ডেক্স : হারের বৃত্ত থেকে বেরই হতে পারছে না মাহমুদউল্লাহর খুলনা টাইটান্স। সাত ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে খুলনা। ফলে বিপিএল’র ষষ্ঠ আসরে এখনো পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেরই দলটির অবস্থান। এ আসরের ২২তম ম্যাচে চিটাগং বাইকিংসের ২১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করেতে যেয়ে নির্ধারিত ওভারে ১৮৮ রানেই থামতে হয় জুনায়েদ সিদ্দিক-স্টারলিংদের। ফলে ২৬ রানের বড় জয় পায় ৫ ম্যাচ খেলে ৪ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মুশফিকের চিটাগাং বাইকিংস।

৩৩ বলে ৫২ রান করা দলপতি মুশফিকুর রহিমকে দেওয়া হয়েছে প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ।

২১৫ রানের পাহাড়সম রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথমেই ধাক্কা খায় বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা খুলনা টাইটান্স। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার পল স্টারলিং। আবু জায়েদ রাহির বলে খালেদ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

৮ বলে ৫ রান করে রাহির দ্বিতীয় শিকার হন আল আমিন। পরের ওভারেই আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকিও আউট হয়ে ফেরেন। এছাড়া শরিফুল ইসলামকেও বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান রাহি।

আগের ম্যাচে দারুণ এক হাফসেঞ্চুরি করা জুনায়েদ এ ম্যাচে ৮ বলে মাত্র ১২ রান করে খালেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

বড় স্কোরের আভাস দিয়েও পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। অধিনায়ক মাহমুদউল্লার সঙ্গী হয়ে অনেকটা সময় কাটিয়ে ১৬ বলে ২৮ রান করে ফেরেন তিনি। নাঈম হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান।

এক প্রান্ত আগলে রেখে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য ২৫ বলে ৫০ পূর্ণ করেই ডেলপোর্টের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তার এ হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার মার ছিলো।

দলকে বিপদে রেখে ১৩ বলে ১১ রান করে ফেরেন আরিফুল হক। তাকেও ফেরান ডেলপোর্ট।

চিটাগংয়ের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রাহি ও ডেলপোর্ট। আর একটি করে উইকেট পান খালেদ ও নাঈম।

এর আগে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ২২তম ম্যাচে মুখোমুখি চিটাগং ভাইকিংস ও খুলনা টাইটান্স। শনিবার (১৯ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমে ব্যাট চিটাগং ভাইকিং চলতি আসরের সর্বোচ্চ স্কোর করে। খুলনার সামনে ২১৫ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েছে মুশফিকরা।

টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে সিদ্ধান্ত নেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিলেটে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে এটিই শেষ ম্যাচ।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি চিটাগং। দলীয় ১৭ রানে শরিফুল ইসলামের বলে বিদায় নেন ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্ট। ১২ বলে ১৩ রান করেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান।

তবে ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহাজাদকে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম। ১৭ বলে দুটি চার ও সমান ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এই আফগান।

এরপর জুটি গড়ে দলকে সামাল দেন ইয়াসির আলী ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা ৮৩ রান তোলেন।

দারুণ খেলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন দেশীয় তরুণ ইয়াসির। মাত্র ৩৪ বলে দেখা পান টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটির। পরে ৩৬ বলে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫৪ করে ডেভিড উইসির বলে আউট হন এই ডানহাতি।

২৯ বলে ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির দেখা পান দলনেতা মুশফিকুর রহিম। আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন তিনি। প্রোটিয়া পেসার উইসির শিকারেই ৩৩ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় ৫২ করে বিদায় নেন মুশি।

মুশফিক ফিরলেই ব্যাটে ঝড় চলতে থাকে দাসুন সানাকার। তাকে সঙ্গ দেন নজিবুল্লাহ জাদরান। দুজনেই অপরাজিত থেকে দলকে দেন চলতি আসরের সর্বোচ্চ ও বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। সানাকা ১৭ বলে ৪২ ও জাদরান ৫ বলে ১৬ রান করেন।

খুলনার হয়ে দু’টি উইকেট নেন ডেভিড ওয়াইজ। আর একটি করে উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে