প্রতীক পেয়েই নির্বাচনী প্রচারণায় সিলেটের প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেটঃ সিলেটের ছয়টি আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে সোমবার প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।

প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরাই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করেন প্রচারণা।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপাড়ে নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এরপর তিনি নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় গণসংযোগ ও বাগবাড়ি বর্ণমালা স্কুল মাঠে নির্বাচনি সভা করেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রতীক পেয়েই জিয়ারত করেন হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার। এরপর তিনি দরগাহগেইট, চৌহাট্টা এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন।

এবার সিলেট-১ আসনে ১০ জন, সিলেট-২ আসনে ৭ জন, সিলেট-৩ আসনে ৬ জন, সিলেট-৪ আসনে ৫ জন, সিলেট-৫ আসনে ৮ জন এবং সিলেট-৬ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে সিলেট-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগের এ কে আব্দুল মোমেন নৌকা, বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ধানের শীষ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা নাসির উদ্দিন বট গাছ, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি ইউসুফ আহমদ আম, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উজ্জল রায় কোদাল, বাসদের প্রনব জ্যোতি পাল মই, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী লাঙ্গল, ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক মিনার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আনোয়ার উদ্দিন বোরহানাবাদী হারিকেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী হাত পাখা প্রতীক পেয়েছেন।

সিলেট-২ আসনে বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী দেওয়াল ঘড়ি, গণফোরামের মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির মনোয়ার হোসাইন আম ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মোশাহিদ খান টেলিভিশন প্রতীক পেয়েছেন।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী নৌকা, বিএনপির শফি চৌধুরী ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের এমএ মতিন বাদশা হাতপাখা, জাতীয় পার্টির উছমান আলী লাঙ্গল, খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন দেয়াল ঘড়ি ও আতিকুর রহমান রিকশা প্রতীক পেয়েছেন।

সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদকে নৌকা, বিএনপির দিলদাল হোসেন সেলিম ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির এটিইউ তাজ রহমান লাঙ্গল, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোজ কুমার সেন কোদাল এবং ইসলামী আন্দোলনের জিল্লুর রহমানকে হাত পাখা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের হাজিফ আহমদ মজুমদার নৌকা, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন লাঙ্গল, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ মতিন চৌধুরী মিনার, মুসলিম লীগের শহীদ আহমদ চৌধুরী হারিকেন, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল আমিন হাতপাখা, গণফোরামের বাহার উদ্দিন উদীয়মান সূর্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়জুল মুনীর চৌধুরী সিংহ প্রতীক পেয়েছেন।

সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ নৌকা, বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরী ধানের শীষ, বিকল্পধারার শমসের মবিন চৌধুরী কুলা এবং ইসলামী আন্দোলনের আজমল হোসেন হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।

প্রতীক পেয়ে সোমবার থেকেই প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেয়া ছিল। এ দল দুটির প্রার্থীরা নির্বাচনী পোস্টার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। কাল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়েছেন তারা।

এছাড়া লিফলেট বিতরণ করতেও দেখা যায় প্রার্থীদের। প্রার্থীরা পূর্বে থেকেই প্রচারণার জন্য মাইকের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। ফলে প্রতীক বরাদ্দের পর নৌকা আর ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার মাইকিংয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।