স্কুলছাত্র অপহরণ রহস্যের উদঘাটন করেছে সিলেট জেলা পুলিশ

স্কুলছাত্র অপহরণ রহস্যের উদঘাটন করেছে সিলেট জেলা পুলিশ

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আখতারুজ্জামান রিয়াদ (১৬) নামের স্কুলছাত্র অপহরণ রহস্যের উদঘাটন করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন অপহরণকারীকে আটক করেছে। তবে এখনো অপহরণে জড়িত পলাতক আরো দুইজনকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- বিয়ানীবাজারের কাকরদিয়া গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে আব্দুশ শহীদ (২০), জকিগঞ্জ থানার লামারগ্রামের আব্দুর রউফের পুত্র রমজান আলী (২৮), বিয়ানীবাজারের নিদনপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের পুত্র রেদোয়ান আহমদ (১৯)।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার মাহবুবুল আলম জানান, গত ১০ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে বিয়ানীবাজার থানাধীন দাসগ্রাম সাকিনের মৃত রুহুল আমিনের পুত্র রিয়াদকে পৌরসভাস্থ জামান প্লাজার সামনে থেকে তিন আসামী এবং অজ্ঞাত আরো দুইজন মিলে অপহরণ করে। তিনি জানান, আসামীরা ভিকটিমকে অপহরণ করে এক আসামীর ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়া যায়। পরে গাছ দেখানোর কথা বলে পাশে একটি টিলাতে নিয়া তাকে রশিদ্বারা হাত পা ও মুখ কাপড় দিয়া বাধিয়া গাছের সাথে বেধে রাখে এবং তাকে ধারালো ছাকু সহ বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। সোমবার সকালে একটি ফোন কলের মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে রিয়াদকে মুক্তি দিতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার পরিবার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।

তিনি আরো জানান, অপহরণের বিষয়টি অবহিত হয়েই সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের দিকনির্দেশনায় এবং জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়ের তত্ব্বাবধানে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর এর নেতৃত্বে কাজ করে ভিকটিমকে উদ্ধার করি। আমরা প্রযুক্তির সাহায্যে উপজেলার জলঢুপ এলাকা থেকে আখতারুজ্জামান রিয়াদকে উদ্ধার করি। এসময় দুজনকে এবং পরবর্তীতে আরো একজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আহসান উজ জামান (২৫) বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা (মামলা নং-০৯,১১/০৩/২০১৯) দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তভার এসআই সিরাজুল ইসলাম-২ এর উপর অর্পন করছেন। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। শীঘ্রই অপর আসামীরা ধরা পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।