সৌদিতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের ৯ নারী দেশে ফিরেছেন

কাজ করতে একটু দেরি হইলেই অনেক মারে। আমি দেয়াল মুছতে একটু দেরি করায় তিন দিন আমারে মারছে। এক সপ্তাহ কোনো খাওন (খাবার) না দিয়া একটা রুমে বন্দি কইরা রাখছে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পাইরা পালাইয়া আইছি। আর কয়েক দিন ওই কপিলের বাসায় থাকলে আমি মারা যাইতাম। ভাল কইরা বাঁচতে সৌদি গেছলাম, এখন কোনো রকম জীবন বাঁচাইয়া ফিরা আইছি। কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে নিয়োগ কর্তা কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুহেনা বেগম (২৫) (ছদ্মনাম)।

সোমবারে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওই ২২ নারী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বলে জানান ব্র্যাকের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন। সোমবার (২৬ আগস্ট) আমিরাত এয়ারওয়েজের দু’টি বিমান যোগে দুই দফায় ১২ ঘণ্টায় দেশে ফিরেন ১১০ নারী গৃহকর্মী। বিকেল ৫.২৫ মিনিটে ৪৫ জন ও রাত ১১.২০ মিনিটে ৬৫ জন নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরেছেন। এই ১১০ জনের মধ্যে ২২ জন ছিলেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। দেশে ফেরত আসা ২২ জনের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলারই ৯ জন নারী। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে রুহেনা বলেন, অনেক কষ্ট করে কাজ করেছি ৭ মাস। কাজ করতে সামান্য দেরি হলেই অনেক নির্যাতন করতো। আমার ৫ মাসের বেতনও পাওনা আছে। কিন্তু নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসি আমি।
এম্বাসিতে আমার মত আরো ১৫০ নারী পেয়েছি আমি। সবাই কপিলের নির্যাতনের শিকার। কারো হাত ভাঙা আরো পা ভাঙা। প্রতিদিনই ১০ থেকে ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে এম্বাসিতে আসে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ ঘণ্টায় দেশে ফেরা ১১০ নারী গৃহকর্মীর মধ্যে ২২ জন সিলেট বিভাগের। ওই ২২ জনের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার ৯ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ৭ জন, সিলেট জেলার ৫ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ছিলেন ১ জন ছিলেন। ব্র্যাকের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা নারীদের আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করি। বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে সকলকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।