২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৩৩

জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

স্যার না ডাকায় সাংবাদিকের উপর চটলেন ইউএনও

হবিগঞ্জ স্যার না ডাকায় সাংবাদিকের উপর চটলেন ইউএনও। এঘটনা জেলার মাধবপুরের ইউএনও এ. কে. এম. ফয়সালককে স্যার না ডাকায় কালবেলার মাধবপুর প্রতিনিধি মুজাহিদ মসির উপর চটলেন তিনি।

এ ঘটনায় উপজেলার সাংবাদিক ও সচেতনমহলে ইউএনওর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে। তদন্তের দাবীতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়েরও করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রবিবার (১৭ মার্চ) অফিসে খোলা দেখায় কালবেলার প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি স্থানীয় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের তথ্য প্রাপ্তির আবেদনের জবাব আনতে গেলে ইউএনওকে “ভাই” বলে সম্বোধন করায় অফিসে সবার সামনে উত্তেজনা প্রদর্শন করেন ইউএনও। এ সময় পাশে বসে থাকা এসিল্যান্ড রাহাত বিন কুতুকও ইউএনওকে সমর্থন করে অপমান করারও চেষ্টা করেন।

ইউএনও ও এসিল্যান্ড তখন বলেন, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের উপজেলা লেভেলের সাংবাদিকরা কোনভাবেই “ভাই” বলে সম্বোধন করতে পারেন না। আমরা তাদের আত্বীয়-স্বজন নই।

মাধবপুর রিপোর্টাস ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ন সরকার নয়ন বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য খুঁজে জনগণের সামনে পেশ করেন। অহংকারী জমিদার মাইন্ডের কতিপয় ইউএনওদের স্যার ডাক শুনার খায়েশ সম্পূর্ণ আইন বিধিও গণতন্ত্র বিরোধী। অনতিবিলম্বে সাংবাদিক মজাহিদ মসিকে দ্রুত তার আবেদিত তথ্য প্রদান ও ক্ষমা না চাইলে আমরা সাংবাদিকরা মিলে মানববন্ধনের আয়োজন করবো।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মুজাহিদ মসি জানান, “ইউএনও নিজেই আমাকে চিঠি দিয়ে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে তথ্য নিয়ে যেতে বলেছেন। এখন সে তথ্য দিতে গরিমসি করছে, উল্টো আমাকে স্যার না ডাকার অজুহাতে আমাকে অপমান করতে চাইছেন। ওই তথ্য ফাঁস হলে নিজেই দুর্নীতি দায়ে ফেসে যেতে পারেন।”

এ বিষয়ে জানতে ইউএনও কেএম ফয়সালকে ফোন দেওয়া হলে তিনি হবিগঞ্জ নিউজকে জানান, “সাংবাদিক মুজাহিদ মসি অফিসে এসে আমাকে ভাই বলে সম্বোধন করলে আমি তাকে ভাই না ডাকার কথাবলি। স্যার অথবা ইউএনও সাহেব ডাকার কথা বলি। অফিসিয়ার ডেকুরামে ভাই বলা যায়না। আমিতো আর ওনার কোন আত্মীয় নই।”

ইউএনও আরো বলেন, “আপনারা (অর্থাৎ সাংবাদিকগন) বিষয়টিকে যেভাবে সাজিয়েছেন বিষয়টি এমন নয়। সাংবাদিক মসি যেমন বলেছে ঘঠনাটি এভাবে ঘটেনি।”

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমেদ সিদ্দিকি (এনডিসি) জানান, “সাংবাদিকদের যত বড় কর্মকর্তা হউক না কেন কাউকে স্যার বলে ডাকার নিয়ম নেই। তথ্য নিতে আসা কালবেলার সাংবাদিকের সাথে ইউএনও বেশামাল আচরনের বিষয়টা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবেই আর তথ্যও দেয়া হবে।”