হবিগঞ্জে ডাক্তারদের দুপক্ষের মারামারি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় ডাক্তারদের দুপক্ষের মারামারির ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কিন্তু কোন মামলাই থানায় এফআইআর করা হয়নি। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আয়া মোছা. সালমা খাতুন বাদী হয়ে ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করে হবিগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সালমা তার মামলায় জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও হাসপাতালের স্টাফকে সাক্ষী করেন। তার সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ডা. অসিত রঞ্জন দাস, ডা. প্রবাস চন্দ্র দেব, ডা. আবু নাইম মাহমুদ হাসান, ডা. মীর মো. মঈন উদ্দিন, ডা. দেবাশীষ দাস, ডা. কায়ছার রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান, ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল, ডা. তারেক আল হোসাইন।সালমা খাতুন তার অভিযোগে বলেন, আসামিগণ দলভুক্ত সন্ত্রাসী, সরকারি সম্পদ অনিষ্ট সাধনকারী ও খুনি প্রকৃতির ব্যক্তি বটে। আসামি ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশসহ অজ্ঞাত আসামিগণ দেশের প্রচলিত আইন কানুনের তোয়াক্কা করছে না, পক্ষান্তরে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিরীহ ব্যক্তি বটে।

২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে ২৫০ শয্যা হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে ডা. মুশফিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা চলছিল। সভা চলাকালে হঠাৎ করে আসামি ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশসহ অজ্ঞাত আসামিগণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সভাকক্ষে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করে মারমুখী আচরণ করেন। তখন সভাপতি ডা. মুশফিক চৌধুরী এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ডা. পলাশ তার সঙ্গীদেরকে সভায় উপস্থিত সকলকে হত্যার হুকুম দেন।

ডা. পলাশের হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য আসামিগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সভায় উপস্থিত সকলের উপর হামলা চালায়। এ সময় ডা. পলাশ লোহার পাইপ দিয়ে আয়া সালমা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথার উপর আঘাত করেন। উক্ত আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সালমার ডান গালে পড়ে। ফলে সালমা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন।এছাড়া আরো বেশ কিছু আঘাতে সালমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। আসামিদের হামলায় হাসপাতালে কর্মরত শাহজাহান মিয়া, ফরিদ মিয়া, আব্দুল হামিদসহ অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আসামিরা ওই সভায় অংশগ্রহণকারী ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ স্টাফদের লাঞ্ছিত ও মারপিট করে এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে।

এছাড়া আসামিরা ডাক্তার ও নার্সদের ভবিষ্যতে দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার আরজিতে আয়া সালমা খাতুন উক্ত ঘটনায় দুষি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ওসির প্রতি অনুরোধ জানান।অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগে জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে ১নং বিবাদী করা হয়।

এছাড়া আরো যাদেরকে বিবাদী করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- ডা. মঈন উদ্দিন সাকু, প্রহরী শাহজাহান, পিয়ন ছোটন, ব্রাদার হাবিবুর রহমান। তার অভিযোগে মোট ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।অভিযোগে তিনি দাবি করেন- আসামিগণ তার উপর চড়াও হয়ে তাকেসহ তার সঙ্গীদেরকে মারপিট করেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় হামলা চালায় চিকিৎসকদের একটি অংশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের সভাকক্ষে বিএমএ হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএমএ হবিগঞ্জ জেলা শাখা সদর আধুনিক হাসপাতাল সভাকক্ষে সভায় মিলিত হয়। বিএমএ ও স্বাচিপ হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএমএ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপ এর সাথে সম্পৃক্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং হাসপাতালের নার্সসহ স্টাফরা অংশ নেন।

সভা চলাকালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সভাকক্ষে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ডা. পলাশ ক্ষুদ্ধ হয়ে ডা. মুশফিক চৌধুরীর কাছে জানতে চান তাকে না জানিয়ে কেন সভা আহ্বান করা হলো।

এ সময় ডা. পলাশ সভায় উপস্থিত সকলকে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আহত অবস্থায় আব্দুল হামিদ (৪৬), ফরিদ মিয়া (৩০), শাহজাহান মিয়া (৩০), সালমা বেগম (৪৬), মনীষা (২০) ও শেখ জাহিরকে (৫৫) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।