ভয়ানক গ্যাস বোমায় ভাসছে হবিগঞ্জের দোকানপাট

ভয়ানক গ্যাস বোমায় ভাসছে হবিগঞ্জের দোকানপাট

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভয়ানক গ্যাস বোমায় ভাসছে হবিগঞ্জের দোকানপাট, বাসা-বাড়ি। যত্রতত্র ‘মুড়ি-মুড়কি’র মত বিক্রি হচ্ছে মৃত্যুদূত গ্যাস সিলিন্ডার। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত বিপদজনক গ্যাস (এল.জি.পি গ্যাস) সিলিন্ডারের দোকান। যাদের অধিকাংশেরই নেই বৈধ লাইসেন্স, সুরক্ষিত গোদাম, প্রশিক্ষিত জনবল।

লক্ষ্য করা গেছে, পানের দোকান, চায়ের স্টলেও এখন বিক্রি হচ্ছে এসব বিপদজনক সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও জনবহুল রাস্তার পাশে ‘আলু-মুলা’র মত সাজিয়ে রাখা হয়েছে সিলিন্ডারের পসরা।

অভিযোগ উঠেছে, বাজারে মেয়াদউত্তীর্ণ নিন্মমানের সিলিন্ডার ও রেগুলেটরই বিক্রি হচ্ছে বেশী। প্রয়োজনের তাগিদে এসবই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। এ বিষয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় বিষয়টি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এতে করে দেখা দিয়েছে ভয়ানক বিস্ফোরন ও প্রাণহানীর আশংকা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরনের ঘটনায় এ আশংকা আরও প্রবল হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসাথে ৪১ টির বেশী গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে হলে ব্যবসায়ীর জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে একসাথে ৪১ টির কম সিলিন্ডারের জন্য শুধুমাত্র ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রই বাধ্যতামুলক।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শামছুল আলম জানান, জেলার ৮০ ভাগ সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানেরই লাইসেন্স নেই। তাদের লোকজন দোকানে দোকানে গিয়ে লাইসেন্স করার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ভুদ্ধ করে থাকেন। এতে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাড়া দিলেও বড়-বড় ব্যবসায়ীরা অনাগ্রহ দেখান। যেকারনে দোকান গুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী, এল.পি.জি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পাকা মেঝেসহ আধা-পাকা ঘর ও অগ্নি-নির্বাপক সক্ষমতা থাকতে হবে। সচেতন হতে হবে বাস-বাড়ির ব্যবহারকারীদের। প্রয়োজনে নিতে হবে ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ।

জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত জেলার ২৯টি অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে, না-না সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।