জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

করাতীদের দূর্দিন চলছে, অভাবে পেশা বদল

এককালে হাতেটানা করাতিদের বেশ কদর ছিল।তারা করাত দিয়ে গাছ কেটে প্রয়োজনমত কাঠ চিরাই করতো।

যখন যে গৃহস্থ এবং যারা কাঠের এফ সি গৃহ নির্মান করতো বা অন্যকোন সামগ্রী যেমন আসবাবপত্র তৈরীর প্রয়োজন পড়ত তখনই ডাক পড়তো পেশাগতভাবে কাজ করা করাতিদের।

দেশের বিভিন্ন এলাকাথেকে এসে করাতীরা গাছ চিরাই করতো।সেকালে এ সকল করাতীদের বেশ কদর।করাতীরা ছাড়া কাঠ চিরাই করার তেমন কোন সুযোগ ছিলনা।আজ থেকে ৩০-৪০ বছর পূর্বে করাতি ব্যতীত কাঠ চিরাই করারকোন উপায় ছিলনা। সে সময় বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পেশাধারী করাতিরা দলবেঁধে হবিগঞ্জ সহ বৃহত্তর সিলেটে আসতো।

সে সময় তারা যে বাড়ীতে কাঠ চিরাই করতো সে বাড়ীতে বা যে হাটবাজারে কাঠ চিরাই করতো সেখানে মাসাবধি থেকে এ কাজ করতো।এতে তাদের আয় রোজগারও হতো বেশ।

কালের বিবর্তনে করাতীদের সেই দিন আর নেই।যান্ত্রিক করাতকলের এর প্রসার হতে থাকায় হাতে টানা কাঠ চিরাই কাজে নিয়োজিত পেশাজীবীরা পড়ে যায় বিপাকে।নিত্য অভাব অনটনে অনেকে এ পেশা আঁকড়ে রয়েছে।আবার কেউবা নিরুপায় হয়ে বাপদাদার পেশা বদল করে অন্য চলে গেছে।

বর্তমানে করাতীদের কাজের ক্ষেত্র যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি মজুরী কমে গেছে তুলনামূলকভাবে।এখনও যারা এ পেশায় জড়িত রেয়েছেন তারা পূর্বের ন্যায় বাড়ী বাড়ী গিয়ে গাছ চিরাই করে না বা কেউ তাদের ডাকেওনা।

এখন তারা হাট- বাজার ও ছোট-বড় সমিল এ যে গাছগুলো অতিরিক্ত মোটা যেগুলো ফালি না করে মিলে চিরাই করা যায় না সেগুলো তারা চিরাই করে থাকে।আর এ সীমিত আয়ে কোন রকমে সংসার চলে।এমনই এক করাতী দলের সাথে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎ হয় লাখাইর স্থানীয় বুল্লাবাজারে। তারা সেখানে বড় বড় গাছ করাত টেনে ফালি করছে।

৪ সদস্যের করাতী দলের সরদার চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার লেজকসা গ্রামের ষাটোর্ধ ইলিয়াস মিয়াজী জানান আমি প্রায় ৩৫/৪০ যাবৎ পেশায় রয়েছি। আমার এ দলে রয়েছে একই গ্রামের আলমাস মিয়াজি (৫৫), ডিঙা ভাঙা গ্রামের নাসির খন্দকার (৬০) ও শাহ আলম বকাউল (৫৫)। তিনি আরও জানান সমিল হওয়ায় আগের মতো কাজ পাইনা।আর যাও পাই তাতেও মজুরীও কম।তাই কষ্টে জীবন চলে।জমি জমাও নেই।তাই বাধ্য হয়ে এ বয়সে দেশে দেশে ঘুরে এমন পরিশ্রমের করে যাচ্ছি।

 

ইলিয়াস মিয়াজী আরোও জানান আয় রোজগার যা হয় তা থেকে নিজেদের দৈনন্দিন খরচ বাদে তেমন বেশি থাকেনা।তাই স্ত্রী পুত্র, কন্যা নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে।তবুও এ পেশায় রয়েছি। আর কোন কাজও জানিনা।

Share this news as a Photo Card