হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবতীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১নং ইউনিয়নের হিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. হুসনা আক্তার (২০) এ ঘটনায় বাদী হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বলাইনগর এলাকার নুর উদ্দিন ও তার সহযোগী আলম মিয়াকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নুর উদ্দিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়। বর্তমানে বিয়ের কথা বললে নুর উদ্দিন তা অস্বীকার করে উল্টো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, সহ-আসামি আলম মিয়ার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে ভুক্তভোগী তার নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর আসামিপক্ষ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে এবং স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি জোরপূর্বক সালিসে বসানোর অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ফরিদ মিয়া জানান, উভয় পক্ষের সম্মতিতে তার বাসায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বানিয়াচং সুজাতপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতালিব জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

