Category: বাহুবল

  • বাহুবলে কাঠ পাচারকালে বন প্রহরীদের গুলি, ৭.৭৩ ঘনফুট আকাশমণি কাঠসহ সিএনজি জব্দ

    বাহুবলে কাঠ পাচারকালে বন প্রহরীদের গুলি, ৭.৭৩ ঘনফুট আকাশমণি কাঠসহ সিএনজি জব্দ

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট এলাকা থেকে কাঠ পাচারের সময় বন প্রহরীদের সঙ্গে পাচারকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন প্রহরীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬ টুকরো আকাশমণি কাঠ, যার পরিমাণ ৭.৭৩ ঘনফুট, এবং কাঠ পাচারে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুর রহমানের নির্দেশনায় সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ ও চেক স্টেশন কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুটিজুরী বন বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ টহলের নির্দেশ দেন।

    নির্দেশনা অনুযায়ী বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বনাঞ্চলে বিশেষ টহল পরিচালনাকালে দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বনাঞ্চল থেকে আকাশমণি কাঠ পাচার করছেন। বন প্রহরীরা তাদের বাধা দিলে তারা হামলার চেষ্টা করে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন প্রহরীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে পাচারকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।

    ঘটনাস্থল থেকে ২০০৬-০৭ সালের বনাঞ্চলের ৬ টুকরো আকাশমণি কাঠ, যার পরিমাণ ৭.৭৩ ঘনফুট, এবং পাচারে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা (হবিগঞ্জ-থ-১১-৩৬১৪) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

    জব্দ করা কাঠ ও সিএনজি অটোরিকশাটি বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

  • বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ উদ্ধার নবীগঞ্জে

    বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ উদ্ধার নবীগঞ্জে

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের শংকরপুর (ইছবপুর) গ্রামের সিএনজি চালক তুহিন মিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিহত তুহিন মিয়া শংকরপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে। তার ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশার নম্বর হবিগঞ্জ-থ-১১-৪৩৪০।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০টার পর থেকে সিএনজিসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তুহিন মিয়া। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

    বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের লাশ

    অবশেষে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলি এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

    এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত ঘটনার তদন্ত শুরু করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।

  • কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় চলমান ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ভুলতা গ্রিডের নিকটবর্তী ভুলতা-টু-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ‘ওয়াই (Y) ফেজ’ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যায়। এর ফলে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ থেকে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। তবে সঞ্চালন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি স্প্যানজুড়ে কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কন্ডাক্টর পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আগামী রোববার বা সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

    বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

  • বাহুবলে এক অনন্য বিয়ের গল্প: নেপথ্যে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ

    বাহুবলে এক অনন্য বিয়ের গল্প: নেপথ্যে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ

    “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই চিরন্তন বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। সংগঠনটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় এক অসহায় ও পিতৃহীন তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে।

     

    শুক্রবার (১৯ জুন) সুন্দ্রাটিকি গ্রামে অনুষ্ঠিত এ বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যুব সংঘের সদস্যরা বিয়ের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন ও যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

     

    জানা যায়, পিতৃহীন ওই তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। সংগঠনের উদ্যোগে নবদম্পতির নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, রান্নার সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিয়ের সকল ব্যয়ভার ও আয়োজনও সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়।

     

    বিয়ের অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরুব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত থেকে বর-কনেকে আশীর্বাদ ও দোয়া করেন। এমন মহৎ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

     

    এ বিষয়ে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মো. কেফায়েত উল্লা বলেন, “একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী সদস্যরা দূরে থেকেও অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব হতো না।”

     

    তিনি আরও বলেন, “গ্রামের মুরুব্বি, উপদেষ্টা ও স্থানীয় এলাকাবাসী যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও যুব সমাজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হবে।”

     

    এদিকে, যুব সংঘের এমন মানবিক উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যদেরও মানবসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।

     

    উল্লেখ্য, বিয়ের পুরো আয়োজন সফল করতে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

    বিয়েবাড়ির ব্যবস্থাপনা, অতিথি আপ্যায়ন, খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে বিদায় মুহূর্ত পর্যন্ত তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

  • আগামীকাল বিয়ে: অসহায় বোনের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত সুন্দ্রাটিকি যুব সংঘ

    আগামীকাল বিয়ে: অসহায় বোনের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত সুন্দ্রাটিকি যুব সংঘ

    “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই মহান আদর্শকে ধারণ করে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। একটি অসহায় ও পিতৃহীন পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি মানবসেবার বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

    জানা গেছে, আগামীকাল (শুক্রবার) সুন্দ্রাটিকি গ্রামের এক পিতৃছায়াহীন তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। বিয়েকে ঘিরে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী, বিছানাপত্রসহ বর-কনের জন্য বিভিন্ন উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছেন যুব সংঘের সদস্যরা।

    এ বিষয়ে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মো. কেফায়েত উল্লা বলেন, “একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এই মহৎ কাজে অংশ নিতে পেরে যুব সংঘের প্রতিটি সদস্য আনন্দিত। যুব সমাজের উচিত মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসা। আমরা এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও এমন কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই।”

    তিনি আরও বলেন, “আগামীকালের এই শুভ আয়োজনটি যেন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য আমরা গ্রামের মুরুব্বি, উপদেষ্টা এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

    ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকাবাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। সংগঠনটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এলাকাবাসীর ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও তারা সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।

    যুব সমাজের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

  • পরিবেশ রক্ষা না হলে ঝুঁকিতে পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম — বাহুবলে সিলিকা বালু উত্তোলন রোধে পরামর্শ সভা

    পরিবেশ রক্ষা না হলে ঝুঁকিতে পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম — বাহুবলে সিলিকা বালু উত্তোলন রোধে পরামর্শ সভা

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকিতে চা বাগান ও সংলগ্ন ছড়া থেকে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন রোধে মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অবহিতকরণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর উদ্যোগে এবং স্থানীয় সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

    শনিবার (২৩ মে ২০২৬) স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মোঃ কেফায়েত উল্লা। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দরবেশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা জাকারিয়া।

    সভায় প্রধান অতিথি ও মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেলার সিলেট বিভাগের সহ-সমন্বয়ক নিরুপম এবং বেলার হবিগঞ্জ জেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার ও সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজ, হবিগঞ্জের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জালাল উদ্দিন রুমি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন, “অননুমোদিত ও অপরিকল্পিতভাবে চা বাগান এবং প্রাকৃতিক ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মহামান্য উচ্চ আদালত এই অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনি নির্দেশনা অমান্য করে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তারা পার পাবে না। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে বেলা আইনি লড়াই আরও জোরদার করবে।”

    সভাপতির বক্তব্যে মোঃ কেফায়েত উল্লা বলেন, “আমাদের এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ, চা বাগান ও ছড়াগুলো অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পরিবেশ রক্ষা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই যুব সমাজ ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার পরিবেশ ও জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। যেভাবে ছড়া ও চা বাগান থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে স্থানীয় অবকাঠামো ও কৃষিজমি হুমকিতে পড়ছে। অবৈধ বালুখেকোদের রুখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ টেনু মিয়া ও মোঃ উস্তার মিয়া।

    সভা শেষে বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জালাল উদ্দিন রুমি স্থানীয় যুব সংঘের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগান ও ছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয়ের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউসার মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মিয়া, অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জাহিদ মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লা, সহ-প্রচার সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সেলিম, সহ-অর্থ সম্পাদক হাফেজ জুবায়ের, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান, সমাজসেবক মাসুক মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • দুই বছরেও উদঘাটিত হয়নি বাহুবলের ছাত্রদল নেতা সাইফুল হ ত্যা রহস্য

    দুই বছরেও উদঘাটিত হয়নি বাহুবলের ছাত্রদল নেতা সাইফুল হ ত্যা রহস্য

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা রহস্যের এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি। সময় গড়িয়েছে প্রায় দুই বছর, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তি কিংবা তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে।

    গত ২০২৪ সালের ২ মার্চ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের করাঙ্গি নদী থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের মরদেহ। নৃশংস এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম ছিলেন বাহুবল উপজেলার ৩ নম্বর সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি সাতকাপন ইউনিয়নের রাসুলপুর গ্রামে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে সাইফুল কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে করাঙ্গি নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান। পরে মরদেহ শনাক্ত করা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরিবারের দাবি, কয়েক দফা থানায় যোগাযোগ করা হলেও তারা আশানুরূপ কোনো তথ্য পাননি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

    এলাকাবাসীর মতে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। অথচ এতদিনেও ঘটনার রহস্য উদঘাটিত না হওয়া বিচারব্যবস্থা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    স্বজনদের দাবি, সাইফুল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, এ ধরনের আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেলে সমাজে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি।