Category: বানিয়াচং

  • নতুন বাণিজ্য সচিব হলেন বানিয়াচংয়ের শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী 

    নতুন বাণিজ্য সচিব হলেন বানিয়াচংয়ের শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী 

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কৃতী সন্তান শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এর আগে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

     

    শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মৃত নজর উদ্দিন আহমদ এর পুত্র। তিনি ১৭তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা।

     

    রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলিপূর্বক পদায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

     

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

     

    প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

     

    বানিয়াচংয়ের সন্তান শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে স্থানীয়ভাবে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এ নতুন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

    বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাহির মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের দুই ভাই ও স্ত্রীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর খাগাউড়া ইউনিয়নের কুর্শা খাগাউড়া গ্রামের চালবন হাওড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত তাহির মিয়া কুর্শা খাগাউড়া গ্রামের রাজপাড়া এলাকার মৃত তাজিমুল্লার ছেলে। আহতরা হলেন—তাহির মিয়ার দুই ভাই শহীদ মিয়া (৪৫) ও আনু মিয়া (৩৮) এবং তার স্ত্রী স্বপনা বেগম (৩৫)।

    স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে তাহির মিয়া তার দুই ভাই শহীদ মিয়া ও আনু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চালবন হাওড়ে জমির আগাছা পরিষ্কার করতে যান। এ সময় প্রতিবেশী চাচা ও চাচাতো ভাই জাহির উল্লাহ, শরীফ, বক্করসহ কয়েকজন তাদের কাজে বাধা দেন।

    এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাহির মিয়াসহ চারজন আহত হন।

    পরে স্বজনরা খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাহির মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তাহির মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

    এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

  • বানিয়াচংয়ে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বানিয়াচংয়ে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

     

    রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও মহল্লায় আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের পাশে ইতালি প্রবাসী ফুল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

     

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুল মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন পর ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। সামনে তার বিয়ের আয়োজন থাকায় তিনি ইতালি থেকে কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে দেশে আসেন। ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় ১৫ থেকে ২০ জনের মতো মুখোশধারী ডাকাত কেচি গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে।

     

    ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের একটি অংশ বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় এবং অন্যরা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও ছয়টি মোবাইল ফোন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

     

    ফুল মিয়ার ভাই নূর মিয়া বলেন, আতিকুর রহমান বিয়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর পর ইতালি থেকে দেশে এসেছেন। গরমের কারণে পরিবারের সদস্যরা কেচি গেট তালাবদ্ধ করে ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতরা গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল নিয়ে যায়।

     

    ডাকাতির শিকার পরিবারের প্রতিবেশী প্রবাসী দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ঘরে রাখা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের অবস্থান জানতে চায়। পরে ভয়ে পরিবারের সদস্যরা সেগুলোর অবস্থান জানাতে বাধ্য হন।

     

    এদিকে ডাকাতির পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক-জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, হবিগঞ্জ রোডের ডাকবাংলো এলাকা থেকে শরীফ উদ্দিন সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়।

     

    স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, এর আগেও ওই এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সামীর আলীর অটো রাইস মিলের সামনে ভোররাতে কয়েকজন যাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর ও টাকা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

     

    এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার ছিলাপাঞ্জা এলাকায় জুমার নামাজের সময় একটি দোকানের তালা ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

     

    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একই ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্রের আনাগোনা রয়েছে। এ ঘটনায় অতীতে থানা পুলিশ ও হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তারা জানান। তবে গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে কেউ কেউ আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

     

    তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

     

    ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুমন মিয়ার বক্তব্য জানতে সকাল থেকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

     

    বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

     

    তিনি বলেন, অপরাধীরা নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করুক, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

    এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সুবিদপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু;  আতাউর সভাপতি, সেকুল সাধারণ সম্পাদক

    সুবিদপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু; আতাউর সভাপতি, সেকুল সাধারণ সম্পাদক

     

    হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সুবিদপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন। শিক্ষা, চিকিৎসা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়।

     

    তালিম সর্দারের সভাপতিত্বে এবং এসএম লুৎফর রহমান কাশেমের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

     

    নবগঠিত কমিটিতে শেখ মো. আতাউর রহমান বাবুলকে সভাপতি এবং মো. সেকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সাদ্দাম হুসেন শাহীন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুলতান আখন্জী প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

     

    কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলদের মধ্যে রয়েছেন—সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, মো. খোকন মিয়া, মুফতি মাহমুদুল আলম ও সৈয়দ আবুল কাউসার; সাংগঠনিক সম্পাদকের সহকারী শাহ আলম; প্রচার সম্পাদকের সহকারী তাজুল ইসলাম; প্রকাশনা সম্পাদক রশেদ আলী; অর্থ সম্পাদক হেলাল মির্জা; সমাজকল্যাণ সম্পাদক রইছ মিয়া; অফিস সম্পাদক নুরুজ্জামান এবং ক্রীড়া সম্পাদক সজল।

     

    এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইকবাল আহমেদ, আহমদ মিয়া, রুপনসহ আরও অনেকে।

     

    মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সুবিদপুর ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে।

     

    তারা আরও বলেন, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

     

    সভা শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

  • ফ্যামিলি কার্ডের ফল স্থগিতের দাবিতে, ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও ; দৌড়ে পালালেন সমাজসেবা অফিসার

    ফ্যামিলি কার্ডের ফল স্থগিতের দাবিতে, ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও ; দৌড়ে পালালেন সমাজসেবা অফিসার

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও শুমারির ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বঞ্চিতদের একাংশ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও সমাজসেবা কার্যালয় ঘেরাও করেন।

     

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি ও তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে এমন কয়েকজনের নাম এসেছে, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার তারা উপজেলা পরিষদে অবস্থান নিয়ে ফলাফল বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

     

    বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে উপজেলা পরিষদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

     

    এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক যুবককে ইউএনওর সঙ্গে উচ্চবাচ্য করতে দেখা গেছে।

     

    বিক্ষোভের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হকসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

     

    পরে বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যামিলি কার্ডের সংশ্লিষ্ট ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

     

    এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর বা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

     

    বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী এবং বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বানিয়াচংয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত যুবলীগ সভাপতি আফজাল আনসারি গ্রেপ্তার

    বানিয়াচংয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত যুবলীগ সভাপতি আফজাল আনসারি গ্রেপ্তার

    হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৩ নম্বর মন্দরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আফজাল আনসারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

     

    গ্রেপ্তারকৃত আফজাল আনসারি (৫৭) উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামের মৃত সিরাজ আনসারীর ছেলে। তিনি ১৩ নম্বর মন্দরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উত্তর সাঙ্গর বাজারে সবজি কেনার সময় বানিয়াচং থানা পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যে তার গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

     

    পরে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে মুঠোফোনে আফজাল আনসারিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

     

    তিনি জানান, আফজাল আনসারির বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার একটি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ছিল। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উত্তর সাঙ্গর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

     

    ওসি আরও জানান, মঙ্গলবার তাকে হবিগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

     

    তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, আফজাল আনসারির বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা থাকলেও সেসবের অধিকাংশে তিনি নামীয় আসামি ছিলেন না। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় চলমান ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ভুলতা গ্রিডের নিকটবর্তী ভুলতা-টু-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ‘ওয়াই (Y) ফেজ’ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যায়। এর ফলে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ থেকে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। তবে সঞ্চালন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি স্প্যানজুড়ে কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কন্ডাক্টর পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আগামী রোববার বা সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

    বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।