Category: চুনারুঘাট

  • বাবা-মেয়েকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

    বাবা-মেয়েকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমান।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর ভাই ইউনুস ও মেয়ে জাসমিন আক্তার।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ মিয়ার পরিবারের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের গতিরোধ করে।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় তাঁদের তল্লাশি করার সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের শত শত মানুষ চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থীরাও থানায় উপস্থিত হন।

    পরে বিকেল ৪টার দিকে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যদি সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।

    এদিকে, অভিযোগের পর এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সাতছড়ি উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

    সাতছড়ি উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

    এর মধ্যে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন। মামলার নম্বর ৩৪।

    ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

     

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব গাছ চুরি করে কেনাবেচা করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

    গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার সঙ্গে ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

    মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও দেওরগাছ ইউনিয়নের ময়নাবাদ গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া (৩০)কে।

    অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিএমসির সভাপতি আবুল খান, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, মিরাশী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগসহ আরও কয়েকজন।

    এজাহারে চুরিকৃত গাছ কেনার অভিযোগে মারুফ মিয়া, জাহাঙ্গীর খান, শফিক মিয়া মহলদার, করিম সরকার, বেলাল, জমরুত, সোহেল ও মিজানুর রহমান সোহাগের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে একই দিনে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে বন বিভাগ। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    স্থানীয় ওয়াইল্ডলাইফকর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে তদন্তে নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

    অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করে আদালতে বিচার্য করা হবে। গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এসব এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচার বন্ধে মামলা ও আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি বন বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

  • ডেপুটি রেঞ্জারের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে চুনারুঘাটে মানববন্ধন

    ডেপুটি রেঞ্জারের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে চুনারুঘাটে মানববন্ধন

    শেখ বেলাল: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বন বিভাগের এক ডেপুটি রেঞ্জারের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

     

    শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের বড়াব্দা জামে মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লি, যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

     

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বনসম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা বনাঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচার, বনসম্পদ লুটপাট ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

     

    লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বন বিভাগের সাবেক ডেপুটি রেঞ্জার এবং বর্তমানে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জে কর্মরত সৈয়দ আশিক আহমদ (৫৪) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বনদস্যুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা ও মামলা করেন। এসব ঘটনার জেরে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

    অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নালমুখ–সাটিয়াজুরি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মিজানুর রহমান সুহাগ ও তাঁর সহযোগীরা তার গতিরোধ করেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং শার্টের পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান। পরে আহত অবস্থায় তাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

     

    লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য এলাকায় বনসম্পদ লুটপাট এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    কন্ডাক্টর ছিঁড়ে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং, কারণ জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ

    সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় চলমান ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ভুলতা গ্রিডের নিকটবর্তী ভুলতা-টু-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ‘ওয়াই (Y) ফেজ’ কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যায়। এর ফলে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ থেকে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। তবে সঞ্চালন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সিলেট অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি স্প্যানজুড়ে কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কন্ডাক্টর পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আগামী রোববার বা সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

    বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

  • বন বিভাগ ও সাতছড়ির সিএমসির যৌথ অভিযানে ২৪টি বন্যপাখি উদ্ধার

    বন বিভাগ ও সাতছড়ির সিএমসির যৌথ অভিযানে ২৪টি বন্যপাখি উদ্ধার

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে বন বিভাগ, সাতছড়ি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ২৪টি বন্যপাখি উদ্ধার করা হয়েছে।

     

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলার বাঘাসুরা ইউপির কালিকাপুর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে এসব পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখির মধ্যে রয়েছে— ৩টি টিয়াপাখি, ৪টি শালিক, ৬টি ঘুঘু, ৬টি ডাহুক, ১টি কোড়া, ১টি বালিহাঁস ও ৩টি ময়না।

    অভিযান চলাকালে বন বিভাগের সদস্যরা পাখি শিকারীদের বাধার মুখেও পড়েন বলে জানা গেছে।

     

    উদ্ধার শেষে ডাহুক, কোড়া ও বালিহাঁস শাহজাহানপুরের কাটেঙ্গা বিলে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া টিয়া, শালিক ও ঘুঘু পাখিগুলো সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গভীর বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সাতছড়ি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করে। পরে বন বিভাগ ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন মাধবপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাসউদ্দীন। তিনি বলেন, এমন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।

    সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, বন্যপ্রাণী ধরে রাখা বা পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্ধারকৃত পাখিগুলো যথাযথভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে।

  • শায়েস্তাগঞ্জে হ ত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক চুনারুঘাট থেকে গ্রেপ্তার

    শায়েস্তাগঞ্জে হ ত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক চুনারুঘাট থেকে গ্রেপ্তার

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ফারুক মিয়া (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (৪ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার রানিরকুট গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জুলাই দিবাগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২ নম্বর আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রানিরকুট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় সবুজ মিয়ার বাড়ি থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফারুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ফারুক মিয়া। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

    শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • চুনারুঘাটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটতে গিয়ে আটক ১ বনদস্যু

    চুনারুঘাটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটতে গিয়ে আটক ১ বনদস্যু

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটার সময় জাফর মিলন মুন্ডা (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বন বিভাগ।

    জানা যায়, উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের অধীনস্থ শালটিলা বন বিটের ফুলছড়ি ক্যাম্প এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ গাছ চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন গাছ কেটে নিয়ে যায়। তবে অধিকাংশ সময় তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে শালটিলা বন বিট কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম সানীর নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ফুলছড়ি ক্যাম্প এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বনাঞ্চলের ভেতরে গাছ কাটার সময় জাফর মিলন মুন্ডাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে তার সহযোগী অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    আটককৃত জাফর মিলন মুন্ডা উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের কাপাই চা বাগান এলাকার দুর্গা মুন্ডার ছেলে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) আটক ব্যক্তিকে হবিগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।