Category: হবিগঞ্জ জেলা

  • লাখাইয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ

    লাখাইয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ

    হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন লাখাই প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

    রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপজেলার করাব, বামৈ, লাখাইসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শনকালে প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপিত হতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পূজা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ বিষয়ে পূর্ব সিংহগ্রাম দাসপাড়া পূজা কমিটির সভাপতি সজল দাস বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করছি। আমাদের পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

    পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লাখাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল আহমেদ, সহসভাপতি মাওলানা জালাল আহমেদ ও মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুশীল চন্দ্র দাস, সহসাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব হাসান অন্তর, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান সুজনসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • নতুন বাণিজ্য সচিব হলেন বানিয়াচংয়ের শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী 

    নতুন বাণিজ্য সচিব হলেন বানিয়াচংয়ের শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী 

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কৃতী সন্তান শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এর আগে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

     

    শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মৃত নজর উদ্দিন আহমদ এর পুত্র। তিনি ১৭তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা।

     

    রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলিপূর্বক পদায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

     

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

     

    প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

     

    বানিয়াচংয়ের সন্তান শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে স্থানীয়ভাবে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এ নতুন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মৌখিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীসহ কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির প্রতিবাদের মুখে পড়েন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ (আপনি একজন সন্ত্রাসী) এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন)—এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র, গ্রেপ্তার এবং পুলিশ হত্যার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

    এ সময় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের সামনে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এদিকে, ইমদাদ চৌধুরী নিষিদ্ধ ঘোষিত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন চৌধুরীর ভাই বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • নবীগঞ্জে মাদকের রমরমা ব্যবসা, জামিনে বেরিয়েই ফের কারবারে জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীরা

    নবীগঞ্জে মাদকের রমরমা ব্যবসা, জামিনে বেরিয়েই ফের কারবারে জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীরা

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন কেউ কেউ—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারিদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    প্রশাসনের অভিযানে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় পুরোনো কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহের কারণে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

     

    মাদকের বিস্তার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

     

    নবীগঞ্জ প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, “মাদক কারবারিদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও এ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

     

    ”স্থানীয় বাসিন্দা শাহেল আহমেদ বলেন, “নবীগঞ্জে কোথায় মাদক বিক্রি হয়, কারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—তা অনেকেই জানেন বলে দাবি করেন। কিন্তু মাদক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান স্থানীয়রা।”

  • সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজসংলগ্ন ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের তিনটি মূল্যবান আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

    মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মাহাদি হাসান।

     

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা মূল্যবান আকাশমনি গাছগুলো অধ্যক্ষের নির্দেশে কাটা হয়েছে। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত এবং স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা সেখানে খেলাধুলা করত। সরকারি জমির গাছ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে কাটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

     

    স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “ডিসি খতিয়ানভুক্ত মাঠের গাছ কেটে ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত, মানুষ সেখানে খেলাধুলা করত। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

    অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। গাছ কাটার অনুমতি, বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের দাবি, গাছগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লাগিয়েছিল এবং সেগুলো কলেজের সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য, কিছু গাছের ডালপালা ঝরে পড়ায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এদিকে, কলেজসংলগ্ন সরকারি মাঠে বাউন্ডারি নির্মাণকাজ নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এর আগে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় প্রশাসন কাজটি স্থগিত করে। তবে মাঠে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত বাউন্ডারির বাঁকানো রড পথচারী ও খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব বিপজ্জনক রড দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের গাছ যথাযথ অনুমতি ছাড়া কাটার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দুই কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি নিজেও পর্যবেক্ষণ করছেন।

    সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগের পাশাপাশি মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তদন্তে গাছ কাটার অনুমতি, দায়দায়িত্ব এবং সরকারি সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

  • হবিগঞ্জের তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    হবিগঞ্জের তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    সূক্ষ্ম সৌন্দর্যকে দীর্ঘ এক্সপোজার ও আলো-ছায়ার ব্যবহারে ক্যামেরাবন্দি করছেন তরুণ আলোকচিত্রী অভিউল মারুফ।

    হবিগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই তরুণ বর্তমানে সিলেটে বসবাস করছেন। জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত আলোকচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ২০২২ সালে আলোকচিত্রের জগতে তাঁর যাত্রা শুরু। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃতিকেন্দ্রিক আলোকচিত্র, বিশেষ করে দীর্ঘ এক্সপোজার ও উদ্ভিদভিত্তিক কাজের মাধ্যমে নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছেন তিনি।

    তাঁর ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ সিরিজে ফুল, পাতা, উদ্ভিদের সূক্ষ্ম গঠন এবং আলো-ছায়ার বিন্যাস এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির পরিচিত দৃশ্যও নতুনভাবে ধরা দেয়। বাংলাদেশের সিলেটে ধারণ করা এই সিরিজের ছবিগুলো আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র ও শিল্পবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় স্থান পেয়েছে।

    ফ্রান্সের আলোকচিত্র সাময়িকী ‘লাই দে লা ফটোগ্রাফি’, ইতালির শিল্প ও নকশাবিষয়ক সাময়িকী ‘কোলাতেরাল’ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘বায়রন ম্যাগাজিনে’ তাঁর কাজ প্রকাশিত ও আলোচিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে ‘ওয়ালম্যাগেও’ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতেও সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালে সিলেট পরিবেশ সম্মেলনে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন অভিউল।

    দীর্ঘ এক্সপোজারের প্রতি আগ্রহ:

    দীর্ঘ এক্সপোজার আলোকচিত্রের প্রতি অভিউলের আগ্রহের শুরু সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়। এক রাতে তাঁর এক মামা বাইরে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা জানালে বিষয়টি তাঁকে অবাক করেছিল। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সেখানে কীভাবে ছবি তোলা সম্ভব—সেটিই ছিল তাঁর প্রশ্ন।

    মামা কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ট্রাইপড স্থাপন করেন এবং মুঠোফোনের ম্যানুয়াল মোড ব্যবহার করে ছবি তুলতে শুরু করেন। এরপর ক্যামেরার পর্দায় যে দৃশ্য ফুটে ওঠে, তা অভিউলকে বিস্মিত করে। দীর্ঘ এক্সপোজারের মাধ্যমে অন্ধকার রাতের দৃশ্য যেন দিনের আলোর মতো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

    সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর কাছে দীর্ঘ এক্সপোজার আলোকচিত্রের প্রথম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। পরে তিনি অসংখ্য দীর্ঘ এক্সপোজারের ছবি তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘নকটার্ন’ অ্যালবাম এবং ‘মিডনাইট ম্যাজিশিয়ান’ নামের একটি সিরিজ।

    দীর্ঘ এক্সপোজার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অভিউলের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—ক্যামেরার স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় শাটার খোলা থাকলে ক্যামেরাকে একেবারে স্থির রাখতে হয়। সামান্য নড়াচড়াতেও ছবির কাঙ্ক্ষিত মান নষ্ট হতে পারে। তাই তাঁর কাজের ক্ষেত্রে ট্রাইপড অপরিহার্য।

    ২০২২ সালে আলোকচর্চা শুরু করার পর থেকেই জানালার বাইরে পূর্ণিমার রাতের দৃশ্য দেখলে তিনি দীর্ঘ এক্সপোজারে ছবি তোলার চেষ্টা করতেন। কখনো কখনো বজ্রপাতের দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি। তাঁর গ্যালারিতে ঝড়ের একটি ছবি এখনো রয়েছে। তবে মুঠোফোন হারিয়ে যাওয়ায় তাঁর অনেক পুরোনো ছবি হারিয়ে গেছে।

    সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছবির গঠন বা কম্পোজিশনের বিষয়ে আরও ধৈর্যশীল ও সচেতন হয়েছেন তিনি। সামনে আরও দীর্ঘ এক্সপোজারের ছবি তোলার পাশাপাশি নিজের কাজের পদ্ধতি নিয়মিত উন্নত করার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর।

    কল্পিত দৃশ্যকে ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা:

    একই জায়গায় বারবার ছবি তোলার পেছনে অভিউলের মূল অনুপ্রেরণা হলো কাঙ্ক্ষিত একটি ছবি তৈরি করা। দীর্ঘ এক্সপোজারের কোনো ছবি, বিশেষ করে আলোর রেখা তৈরি হবে—এমন দৃশ্য ধারণের আগে তিনি মনে মনে চূড়ান্ত ছবিটি কল্পনা করেন। ফ্রেমজুড়ে আলো কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে, কোথায় আলোর রেখা তৈরি হবে কিংবা গতির কারণে দৃশ্যটি কীভাবে বদলে যাবে, সেসব বিষয় আগে থেকেই ভাবেন তিনি। এরপর কল্পিত দৃশ্যটির কাছাকাছি পৌঁছাতে একই জায়গায় একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

    উদ্ভিদবিষয়ক কাজের মধ্যে তাঁর একটি প্রিয় দীর্ঘ এক্সপোজার ছবির গল্পও আলাদা। ছবিটি তোলার সময় তিনি তাঁর মায়ের মুঠোফোন ব্যবহার করেছিলেন। ফুলের ঠিক পেছনে একটি আলোর উৎস নাড়াচাড়া করছিলেন এবং শাটার স্পিড রেখেছিলেন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সেকেন্ড।

    ছবিটি দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল ছিল না। সে সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছিল। সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছবিটি তোলেন তিনি। চলমান আলোর মৃদু আভা ফুলটির ওপর পড়ে তৈরি করে এক ধরনের স্বপ্নিল আবহ। অভিউলের কাছে ছবিটির ফলাফল ছিল অনেকটা সৌভাগ্যের মতো।

    শহুরে পরিবেশে রাতের ছবি তুলতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উপযুক্ত কম্পোজিশন খুঁজে পাওয়া এবং কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে ঝকঝকে একটি শট নেওয়া। যানবাহনের চলাচল, আলোর গতি এবং সঠিক সময় নির্ধারণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয় এ ধরনের ছবিতে।

    এ কাজে তাঁর বন্ধু রাজ, জামিল ও মেহেদী পাশে ছিলেন। তাঁরা যানবাহনের চলাচলের দিকে নজর রাখতেন এবং কাঙ্ক্ষিত গাড়ি ফ্রেমে আসার মুহূর্তে শাটার চাপার সংকেত দিতেন। সঠিক সময় ও ফ্রেমিং নিশ্চিত করতে বন্ধুদের এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানান অভিউল।

    মুঠোফোনে হাতে ধরে দীর্ঘ এক্সপোজার:

    অভিউলের কাজের একটি উল্লেখযোগ্য ধরন হলো হাতে ধরে দীর্ঘ এক্সপোজারের ছবি তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে তিনি ম্যানুয়াল মোড বা মুঠোফোনের প্রো মোড ব্যবহার করেছেন। ছবির উষ্ণতাও বাড়িয়েছেন। শাটার স্পিড রেখেছেন প্রায় সাত থেকে আট সেকেন্ড।

    এক্সপোজার চলাকালে মুঠোফোনটি সাবধানে এদিক-সেদিক নাড়ানোর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে আলোর রেখা ও ঝাপসা ভাব তৈরি করেছেন। এতে ছবিতে চিত্রকর্মের মতো একটি শৈল্পিক আবহ তৈরি হয়েছে। পরে ওয়েবভিত্তিক ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যার ব্যবহার করে ছবিটি সম্পাদনা করেছেন তিনি।

    সম্পাদনার সময় বাম দিক থেকে আসা দেয়ালের ছায়া কমাতে এক্সপোজার কমিয়েছেন। মূল ছবিটি অন্ধকার থাকায় প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল করে তুলতে আলোর উজ্জ্বল অংশের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি সামগ্রিক উজ্জ্বলতাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সবশেষে ছবির উষ্ণতা বাড়িয়ে ফ্রেমের আলোতে সমৃদ্ধ সোনালি আভা আনার চেষ্টা করেছেন তিনি।

    ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’-এ প্রকৃতির নীরব ভাষা:

    অভিউলের কাছে ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ মানে ফুলের শান্ত, অব্যক্ত সৌন্দর্য। সিরিজটির মাধ্যমে তিনি প্রকৃতির এমন কিছু সাধারণ মুহূর্ত ধরে রাখতে চেয়েছেন, যেগুলো আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে, অথচ ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়।

    এই সিরিজের একটি ছবিতে একটি মৌমাছিকে ফুলের পরাগায়ন করতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকৃতির একটি সাধারণ ও নিঃশব্দ মিথস্ক্রিয়া। কিন্তু স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সেই ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তকে ধরে রাখার মধ্য দিয়ে অভিউল সেটিকে নতুন করে দেখার সুযোগ তৈরি করেছেন।

    ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই সিরিজে উদ্ভিদ, ফুল ও পাতার গঠনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সিরিজটির ছবিগুলো বাংলাদেশের সিলেটেই ধারণ করা হয়েছে। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে চোখের আড়ালে থাকা উদ্ভিদের সৌন্দর্যকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে ধরা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সাধারণ প্রকৃতির দৃশ্যের বদলে ফুল ও পাতার সূক্ষ্ম শিরা, পাপড়ির গঠন এবং আলোর বিন্যাস কাছ থেকে দেখানোর জন্য ম্যাক্রো ও ক্লোজ-আপ ধরনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আলো-ছায়ার বৈপরীত্য এবং স্বল্প উপকরণনির্ভর রচনাশৈলীও সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গাঢ় পটভূমির বিপরীতে মৃদু আলোর ব্যবহার করে উদ্ভিদের সূক্ষ্ম গঠন স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃতিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপনের বদলে সিরিজটিতে একে শান্ত ও ধীর পর্যবেক্ষণের বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় অভিউলের কাজ:

    ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ সিরিজের কাজ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শিল্প, আলোকচিত্র ও পরিবেশবিষয়ক প্রকাশনায় স্থান পেয়েছে। ফ্রান্সের ‘লাই দে লা ফটোগ্রাফি’তে সিরিজটির কাজ প্রকাশিত হয়েছে। ইতালির ‘কোলাতেরাল’ সাময়িকী অভিউলের কাজ নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ, ধীর পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক রূপের নান্দনিক উপস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার বায়রন বে-ভিত্তিক ‘বায়রন ম্যাগাজিনে’ তাঁর কাজ নিয়ে ‘দ্য কোয়ায়েট পোয়েট্রি অব ফ্লাওয়ার্স’ শিরোনামে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উদ্ভিদের সূক্ষ্ম গঠন ও আলোর ব্যবহারকে প্রকৃতির নীরব কবিতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিবেশবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘আর্থ ডট অর্গ’-এর বৈশ্বিক আলোকচিত্রী পরিচিতিতেও ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ কাজটি গুরুত্ব পেয়েছে। শিল্প ও আলোকচিত্রবিষয়ক ‘ওয়ালম্যাগ’ এবং ‘ওয়ার্থহোয়াইল ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তাঁর কাজের নির্মাণপ্রক্রিয়া, দীর্ঘ এক্সপোজার, আলো-ছায়ার ব্যবহার এবং ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ সিরিজের ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘আর্টবিট বাজ’ ও ‘বাইকোস্টাল রিভিউ’তেও তাঁর সিরিজের বিভিন্ন ছবি সপ্তাহের সেরা ফিচার ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত কাজ হিসেবে স্থান পেয়েছে।

    সীমিত সরঞ্জামে আলোকচর্চা:

    অভিউলের কাছে আলোকচর্চার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দুটি সরঞ্জাম হলো একটি ট্রাইপড ও একটি রেডমি মুঠোফোন। দীর্ঘ এক্সপোজারের সময় ক্যামেরা স্থির রাখতে ট্রাইপডকে অপরিহার্য মনে করেন তিনি। আর রেডমি মুঠোফোনের ক্যামেরা ও ম্যানুয়াল মোড তাঁর আলোকচর্চার সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যায় বলে মনে করেন।

    সাধারণ এই সমন্বয় দিয়েই তিনি সিলেটের প্রকৃতি, রাতের শহর, ফুল, পাতা ও আলোর বিভিন্ন মুহূর্তকে নিজের মতো করে ফ্রেমবন্দি করছেন।

    জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি আলোকচর্চা চালিয়ে যাওয়া অভিউল মারুফের পথচলা এখনো শুরুর পর্যায়ে। তবে ২০২২ সালে শুরু হওয়া সেই আগ্রহ এরই মধ্যে তাঁকে দীর্ঘ এক্সপোজার, প্রকৃতি ও উদ্ভিদের সৌন্দর্য নিয়ে নিজস্ব কাজের দিকে নিয়ে গেছে। ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’ সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে সিলেটের পরিচিত প্রকৃতি তাঁর ক্যামেরায় পেয়েছে নীরবতা, আলো এবং ধীর পর্যবেক্ষণের এক স্বতন্ত্র ভাষা।

  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে মাধবপুরের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে মাধবপুরের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে পারফরম্যান্সের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।

    এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি ইউএনও মেহেদী হাসানের কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একজন কর্মতৎপর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মেহেদী হাসান প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দীর্ঘসূত্রতা করেন না। তাঁর কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়।

    ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তাঁর কর্মতৎপরতা দেখে মনে হয়েছিল, তিনি হবেন বাংলা সিনেমার আলোচিত চরিত্র ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’-এর মতো ‘মাধবপুরের ফাটাকেষ্ট’। কারণ, তাঁর কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলে শুধু ‘দেখছি, দেখব’ বলে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কাজের গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

    তিনি আরও বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে এই অর্জন তাঁর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, একইভাবে সততা, নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করে গেলে ইউএনও মেহেদী হাসান প্রশাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবেন।

    ইউ এনওন মেহেদী হাসান বলেন, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এসব দায়িত্ব একটি ইবাদতের অংশ হিসেবে করছি।