Category: আন্তর্জাতিক

  • নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মৌখিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীসহ কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির প্রতিবাদের মুখে পড়েন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ (আপনি একজন সন্ত্রাসী) এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন)—এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র, গ্রেপ্তার এবং পুলিশ হত্যার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

    এ সময় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের সামনে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এদিকে, ইমদাদ চৌধুরী নিষিদ্ধ ঘোষিত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন চৌধুরীর ভাই বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদি আরবের জেদ্দায় গৃহকর্মী ভিসায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুনকে অবশেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে তার নির্যাতনের খবর প্রকাশের পর গত ৫ অক্টোবর তাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রেহেনা খাতুনকে দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রেহেনা খাতুনকে দেশে ফেরানো হবে। তার জন্য বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন।

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। তবে রেহেনার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। তার পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    এদিকে ভুক্তভোগী রেহেনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সর্বশেষ এক ইমু ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তার বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই ভিডিও বার্তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেহেনা।

  • ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া ও অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুন। তাকে উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

     

    পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেহেনার নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।

     

    রেহেনার পরিবারের আরও অভিযোগ, রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত ‘জেনিয়া ওভারসিজ’ নামের রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদিতে তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে রেহেনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিচ্ছেন। তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্বজনরা।

     

    পরিবারের দাবি, রেহেনার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

     

    এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ ১ ও ২ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন বলেন, “গত ৩ অক্টোবর আমরা ই-মেইলের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়েছি। ৫ অক্টোবর লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে। লিখিতভাবে জানানোর পর বিষয়টি তাদের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।”

     

    রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

     

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আরফিন হক বলেন, “আমাদের মহাপরিচালক স্যার একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। আমরা সেটি ফলোআপ করব। বিষয়টি আমরা দেখভাল করছি।”

     

    তবে রেহেনার কাছে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছেছেন কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

     

    এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

     

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “আমার স্ত্রী জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দূতাবাসের লোকজনের সহযোগিতা চাই। দালালরা হুমকি দিচ্ছে, তাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেবে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

     

    পরিবারের দাবি, ৫ অক্টোবর থেকে রেহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরতে না দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সহযোগিতা চান।

     

    এদিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

     

    রেহেনাকে দ্রুত শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নির্যাতন ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

  • হবিগঞ্জের মারিয়া হাসান মাইশার ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন

    হবিগঞ্জের মারিয়া হাসান মাইশার ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন

     

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার শেরপুর রোডের বাসিন্দা মারিয়া হাসান মাইশা অর্জন করেছেন এক অসাধারণ সাফল্য। তিনি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে অধ্যয়নের জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি পেয়েছেন।

    চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতি বছর পাবেন ১৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তার উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনে সহায়তা করবে।

    ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ১ জুলাই তিনি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত স্টেমভিত্তিক সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। সফলভাবে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার পরই তার সামনে উন্মুক্ত হয় আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার এই বড় সুযোগ।

    মাইশার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মনজুর হাসান মনির ২০১৭ সালে মারা যান। এরপর থেকে তার মা রেবেকা সুলতানা ছোট একটি পোশাক ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাইশা নবীগঞ্জের জে.কে. হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং পরে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

    মানবিক বিভাগ থেকে উঠে এসে বিজ্ঞানভিত্তিক সামার স্কুলে অংশ নেওয়া তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেই তিনি প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে সীমাবদ্ধতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

    প্রায় ৭৫ লাখ টাকার এই বৃত্তি শুধু মাইশার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি তার পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি এবং দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। মা ও বড় ভাইয়ের নিরন্তর সমর্থন, শিক্ষকদের উৎসাহ এবং নিজের অদম্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গেছেন এই গৌরবময় সাফল্যের শিখরে।

  • সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা জবাব বিজিবির

    সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, পাল্টা জবাব বিজিবির

    গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক গুলি ছোড়ার ঘটনার জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    সোমবার (১৮ মে) বিকেলে বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ  সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিএসএফ’র গুলি ছোড়ার কোন কারণ জানা যায়নি। তবে বিজিবির পাল্টা গুলিবর্ষণের কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার মানুষজন নিরাপদ বোধ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়।

    মঙ্গলবার (১৯ মে) ৪৮ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজিবির দৃঢ় ও পেশাদার পদক্ষেপের ফলে সীমান্তের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।

    এদিকে ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল বলেন, বিএসএফ কী কারণে গুলি করেছে তা জানা যায়নি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি পাল্টা গুলিবর্ষণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সীমান্তবর্তী মানুষজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

    বিজিবি সীমান্তে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

    এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে।

  • ইসলামিক ঐতিহ্য ও বাণিজ্য সম্ভাবনায় উজবেকিস্তানের প্রতি বাড়ছে আগ্রহ

    ইসলামিক ঐতিহ্য ও বাণিজ্য সম্ভাবনায় উজবেকিস্তানের প্রতি বাড়ছে আগ্রহ

    রায়হান উদ্দিন: বাংলাদেশ ও মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী-পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

    তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে ভিসা সুবিধা, পর্যটন প্রবাহ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে গার্মেন্টস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য ও কাঁচামাল বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টি-শার্ট, নিটওয়্যার ও কটন পোশাক উজবেকিস্তানের বাজারে জনপ্রিয়তা পেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    এছাড়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধশিল্প উজবেকিস্তানের বাজারে জেনেরিক ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

    চামড়াজাত পণ্য, জুতা ও ব্যাগ রপ্তানি এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা উৎপাদনকারী দেশ উজবেকিস্তান থেকে তুলা আমদানি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দক্ষ শ্রমিক, কারিগরি কর্মী ও পেশাজীবী বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য নতুন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও উন্মুক্ত হতে পারে।
    সংশ্লিষ্ট মহল দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি বিনিময়, বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক উজবেকিস্তান ভ্রমণে আগ্রহী হলেও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে সরাসরি ভ্রমণে নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনলাইন ভিসা সুবিধা সহজ করা হলে দেশটি বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

    উজবেকিস্তান মধ্য এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক ঐতিহ্যবাহী দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে বহু বিশ্বখ্যাত ইসলামিক মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে, যা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

    উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্তান, শাহ-ই-জিন্দা, বুখারা এবং সমরকন্দ।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও মানবসম্পদ বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের প্রবাসী নিহত

    মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের প্রবাসী নিহত

    মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার এক প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সদর আলী (৪৫) বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের মহব্বত খানী মহল্লার বাসিন্দা ও মৃত এরশাদ আলীর পুত্র। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মালদ্বীপে সেহরি রান্নার সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একটি কক্ষের ভেতরে থাকা পাঁচজন বাংলাদেশি দগ্ধ হয়ে নিহত হন। তাদের মধ্যে বানিয়াচংয়ের সদর আলীও ছিলেন।

    নিহত সদর আলী প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। দেশে রেখে যান স্ত্রী ও তিন সন্তান—মীম আক্তার (২০), এলিজা আক্তার (১৬) এবং তানভীর আহমদ সৌরভ (১৪)।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বিস্ফোরণের সময় তারা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই পুরো কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কেউ বের হতে পারেননি। এতে ঘটনাস্থলেই ঘুমন্ত অবস্থায় সদর আলীর মৃত্যু হয়।

    এদিকে মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে তার স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।