Category: সুনামগঞ্জ জেলা

  • নবীগঞ্জে পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি শাশুড়ি, গ্রেফতার ১

    নবীগঞ্জে পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি শাশুড়ি, গ্রেফতার ১

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জেরে নিজ শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ তামান্না আক্তার (২২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ একসঙ্গেই বসবাস করতেন।

    গত সোমবার সকালে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে ২৪ ঘনবীগঞ্জে পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি শাশুড়ি, গ্রেফতার ১ঘন্টার ” মধ্যে পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তামান্না আক্তারের সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার রাতে ওই যুবকসহ আরও ২-৩ জন সহযোগী তামান্নার বাড়িতে আসে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের চেষ্টা চালায়।

    তামান্নার কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আলমারি ভেঙে শাশুড়ির আরও ৫ ভরি স্বর্ণ তারা নিয়ে নেয়। এ সময় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তখন তামান্না আক্তার, তার প্রেমিক ও সহযোগীরা মিলে তার হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে তামান্না আক্তার, তার পরকীয়া প্রেমিকসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

    নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুত্রবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • সিলেট জুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বোরো ধান চাষে

    সিলেট জুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বোরো ধান চাষে

    সিলেট বিভাগ জুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বোরো ধান চাষে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকরা বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতিমধ্যে হাওর গুলো ধান চাষের জন্য নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,১৯৫ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

    এদিকে মৌলভীবাজার জেলার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠে এখন কৃষকদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকরা উৎসাহের সাথে মাঠে নেমেছেন।

    কৃষি অফিসের তথ্যমতে মোট লক্ষ্যমাত্রা ৫,১৯৫ হেক্টর। বর্তমান অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে চাষের আওতায় এসেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নেই পর্যায়ক্রমে বোরো চারা রোপন চলছে।

    মাঠে আবাদের তোড়জোড় থাকলেও কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেচ সুবিধা। কৃষকদের মতে, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বোরো চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক এলাকায় নিজস্ব পাম্প বা বিকল্প উপায়ে সেচ দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির অভাব প্রকট।

    কৃষকরা জানান, আবহাওয়া ভালো আছে, কিন্তু ঠিকমতো পানি না পেলে ধানের ফলন ব্যাহত হতে পারে। সেচ সুবিধা বাড়লে আমরা আরও বেশি জমিতে আবাদ করতে পারতাম।

    কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বোরো জমিতে আবাদ সম্পন্ন করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রোপন প্রক্রিয়া শেষ হবে। সেচ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

  • সিলেটের ১৯ আসনের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত, ১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী

    সিলেটের ১৯ আসনের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত, ১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী

     

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের প্রার্থী বণ্টনের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত হয়েছে। ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী দিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাকি ৯টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটভুক্ত অন্যান্য শরিক দলকে।

    তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— সিলেট বিভাগে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কোনো আসন দেওয়া হয়নি, যদিও সারাদেশে দলটিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত।

    সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি সব দলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সুনামগঞ্জ-১ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনেও জামায়াত প্রার্থী দিতে পারে। এতে করে সিলেট বিভাগে জামায়াতের প্রার্থী সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে ১২টিতে দাঁড়াতে পারে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার পর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে দলটি ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। যদিও সংবাদ সম্মেলনে আসনভিত্তিক পূর্ণ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    সিলেট বিভাগে জামায়াতের প্রার্থীরা

    সূত্র অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামী যেসব আসনে প্রার্থী দিচ্ছে সেগুলো হলো—

    সিলেট-১ (সিলেট সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান,

    সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে মাওলানা লোকমান আহমদ,

    সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে মো. জয়নাল আবেদীন,

    সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে মো. সেলিম উদ্দিন,

    সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে মোহাম্মদ শিশির মনির,

    সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে মো. শামছ উদ্দিন,

    সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে আব্দুস সালাম মাদানী,

    মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম,

    মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মো. সায়েদ আলী,

    হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসনে মো. শাহজাহান আলী।

    শরিক দলগুলোর প্রার্থী

    সিলেট বিভাগে খেলাফত মজলিস পেয়েছে ৫টি আসন। এসব আসনে তাদের প্রার্থীরা হলেন—

    সিলেট-২ আসনে মুহাম্মদ মুনতাছির আলী,

    সিলেট-৫ আসনে মুফতী আবুল হাসান,

    মৌলভীবাজার-৩ আসনে মোহাম্মাদ লুৎফুর রহমান কামালী,

    হবিগঞ্জ-২ আসনে দলটির কেন্দ্রীয় আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ,

    হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমদ আব্দুল কাদের।

    এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন। মৌলভীবাজার-৪ আসনে দলটির প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী।

    অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতের ইয়াসীন খান, এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম এবং খেলাফত মজলিসের হাফেজ শেখ মোশতাক আহমদ।

    শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায়, সিলেট বিভাগে তাদের জন্য নির্ধারিত দুটি আসনে নতুন করে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে জোট। এই আসন দুটি হলো— সুনামগঞ্জ-১ ও হবিগঞ্জ-৩।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিভাগে জামায়াতের শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান ও প্রবাসী ভোটারদের প্রভাব বিবেচনায় রেখেই এই আসন বণ্টন করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটে এনসিপিকে কোনো আসন না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • সেপ্টেম্বরে সিলেটের সড়কে প্রাণ গেল ৩৫ জনের

    সেপ্টেম্বরে সিলেটের সড়কে প্রাণ গেল ৩৫ জনের

    সিলেটের সড়কে চলতি বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গেল সেপ্টেম্বর মাসে।

     

    গত মাসে সিলেটজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন। যা চলতি বছরের এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি।

     

    এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সিলেটের সড়কে সর্বোচ্চ ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

     

    গত সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

     

    রোববার দুপুরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মিশু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

     

    প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন উল্লেখ করা হয়। নিহতের মধ্যে ১২ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায়। কম সংঘটিত হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়।

     

    সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট জেলায় ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় ৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।

     

    গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচা সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে নিসচা বিভাগীয় কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

     

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১২ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, ১১ জন সিএনজি ও লেগুনা চালক ও আরোহী, ১০ জন চালক ও ৬ জন পথচারী রয়েছেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৩টি দুর্ঘটনায় ২ জন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ২টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন।

     

    সেপ্টেম্বর মাসে নিহত ৩৫ জনের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

    উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৮২ জন আহত হয়েছেন।

  • চুনারুঘাটে ৫৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক করেছে র‍্যাব-৯

    চুনারুঘাটে ৫৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক করেছে র‍্যাব-৯

    হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় বিশেষ অভিযানে ৫৪ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯।

    র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গতকাল (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাকলাপুঞ্জি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মকবুল হোসেন (৩০)-কে হাতেনাতে আটক করে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের মৃত সোনাফর আলীর ছেলে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মকবুল স্বীকার করেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় গাঁজা এনে হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। আটককৃত গাঁজা সে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিল।

    র‌্যাব জানায়, আটক আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বানিয়াচংয়ে পরকীয়া নিয়ে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি গিয়াসউদ্দিন গ্রেফতার, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

    বানিয়াচংয়ে পরকীয়া নিয়ে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি গিয়াসউদ্দিন গ্রেফতার, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে শ্রমিকের স্ত্রী’র সাথে ঠিকাদার সুজাত পরকীয়া করার জন্য হত্যা করেছিলো শ্রমিক গিয়াসউদ্দিন।

    ঠিকাদার সুজাত হত্যা মামলায় দীর্ঘ আড়াই বছর পাগলবেশে পলাতক থাকার পর অবশেষে পিবিআই’র গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয় ঘাতক গিয়াসউদ্দিন।

    এবং গ্রেফতার হওয়ার পর উক্ত সুজাত হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে আদালতে।

    সূত্রে জানা যায়,সিলেট সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাহিদপুর গ্রামে বানিয়াচংয়ের ঠিকাদার সুজাত মিয়া হত্যা মামলার প্রধাণ পলাতক আসামি বানিয়াচংয়ের গিয়াস উদ্দিন(৫০)কে গ্রেফতার করেন সিলেট জেলা পিবিআই।

    এবং সুজাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে গিয়াসউদ্দিন ।

    ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারী রাত অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের পাশে ভাড়াটিয়া বাসায় ঠিকাদার সুজাত মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে ঘুমের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় শ্রমিক গিয়াস উদ্দিন।

    কিন্তু ঠিকাদার সুজাতের মৃত্যু না হলেও গুরুতর জহম হয়ে আহত হয়।

    পরে আহত অবস্থায় ঠিকাদার সুজাত মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তী করা হয়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ৫ দিন পর ১৯ জানুয়ারী সুজাত মিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

     

    মৃত্যুর পর নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দীনসহ আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় হত্যার উদ্যেশে একটি মামলা দায়ের করেন।

    নিহত ঠিকাদার সুজাত মিয়া(২৬) হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার মৃত নুর আলীর পুত্র।

    এবং গ্রেফতারকৃত আসামি গিয়াস উদ্দিন ও একই গ্রামের নিহত ঠিকাদারের পাশ্ববর্তী বাড়ির আঞ্জব আলীর পুত্র।

    এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখমের অভিযোগে গিয়াস উদ্দীন সহ আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন।

    ছাতক থানা পুলিশ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে গিয়াস উদ্দীনকে পলাতক দেখিয়ে এবং বাকি আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফাইনাল চার্জশীট দাখিল করেন।

    পরে উক্ত চার্জশীটের অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন বাদি নার্গিস বেগম।

    বাদির নারাজি প্রদানের পর আদালত মামলাটি পিবিআই সিলেট জেলাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

    এদিকে পিবিআই সিলেট জেলার তদন্তকারী অফিসার(এসআই)মিন্টু চৌধুরী তার তদন্তকালে গোপন সূত্রে জানতে পারেন যে,ঘটনার পর থেকে ঘাতক গিয়াস উদ্দিন পাগল বেশে নিজের চুল,দাড়ি বড় করে দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।

    তবে ঘাতক গিয়াসউদ্দিন নিজে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না।

    উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ব্যাপক ভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করেন পিবিআই।

    এই ধারাবাহিকতায় গত ৯আগষ্ট (শনিবার) সিলেট গোয়াইনঘাট থানার সীমান্তবর্তী মনরতল এলাকায় পিবিআই অভিযান চালিয়ে গিয়াসউদ্দিনকে দীর্ঘ ২বছর ৬মাস পলাতক থাকার গ্রেফতার করা হয়।

    গিয়াসউদ্দিনকে গ্রেফতারকালে তার পরনে ছিল ছেড়া ও সেলাই করা পাঞ্জাবি।

    এবং তার চুল,দাড়ি গোঁফ সবই বড় বড় এলোমেলো আকারে পাগলের বেশে ছিলো।

    তার আচার আচরণ আপাত দৃষ্টিতে পাগলের মত মনে হলেও গ্রেফতারের পর পিবিআই’র ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তার সুস্থতার প্রকাশ পাওয়া পায়।

    এবং পাগল রুপে আকার ধারণ করে নিজেকে আড়াল রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পিবিআই কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে,

    সে পুরো ঘটনা বর্ণনা দেয় এবং বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করে।

    বিজ্ঞ আদালতে প্রদত্ত ফৌঃকাঃবিঃ এর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দিতে সে প্রকাশ করে বলে,সুজাত মিয়া একজন বিল্ডিংয়ের ঠিকাদার ছিলেন।

    ছাতক থানা এলাকায় ঘটনাস্থলের সাইটে সুজাতের অধীনে গিয়াসউদ্দিন শ্রমিকের কাজ করাকালে তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের ঘরে তার অনুপস্থিতিতে ঠিকাদার সুজাত মিয়া প্রায়ই আসা যাওয়া করতো।

    এক পর্যায়ে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরী করে তার স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন এঙ্গেলে ছবি ধারণ করে ঠিকাদার সুজাত।

    এসব ছবি ধারনের দুই দিন পর সুজাত মিয়া বিল্ডিংয়ের সাইটে গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে মর্মে বুঝাতে চেষ্টা করে এবং তার মোবাইলে আসামী গিয়াস উদ্দীনের স্ত্রীর ছবি পর্যন্ত দেখায় ঠিকাদার সুজাত মিয়া।

    উক্ত দৃশ্য দেখে গিয়াস উদ্দীন উত্তেজিত হয় এবং ছবি গুলো ডিলিট করতে বলে।

    কিন্তু গিয়াস উদ্দিনের কথা রাজি হয়নি ঠিকাদার সুজাত।

    এসময় গিয়াস উদ্দীন কাজ না করেই বাড়িতে চলে যাবে বলে সুজাতকে জানায়।

    কিন্তু সুজাত বলে চলে গেলে তার বিরুদ্ধে চার লক্ষ টাকা চুরির মামলা দিবে।

    এই ভয়ে আসামী গিয়াস উদ্দীন কোথাও যেতে পারছিলোনা।

    এমনকি গিয়াসউদ্দিনকে ৮দিন আটকে রাখে এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ঠিকাদার সুজাত মিয়া।

    এসব ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঠিকাদার সুজাতকে কুপিয়ে হত্যা করে।

    এতোদিন গ্রেফতার এড়াতেই গিয়াসউদ্দিন পাগল বেশে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলো বলে স্বীকারোক্তি প্রদাণ করে।

  • সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

    সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

    সিলেট জেলার অন্যতম দৃষ্টি নন্দন পর্যটন কেন্দ্র সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
    জানা যায়, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছেন না হাউসবোট মালিক ও পর্যটকরা। অনিয়ন্ত্রিত হাউসবোট চলাচলে হিজল-করচ গাছ নষ্ট হয়ে হুমকিতে পড়ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য।
    স্থানীয় ও পর্যটকরা জানান, স্বচ্ছ পানি, মেঘালয় পাহাড় আর নীল আকাশের ওপর সাদা মেঘের খেলা এমন সৌন্দর্যের দেখা  মেলে টাঙ্গুগুয়ার হাওরে। ১০০ কিলোমিটারের অধিক জায়গাজুড়ে দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমিতে এখন ভরা যৌবন।
    বর্ষাকালে এ টাঙ্গুয়ার হাওর সাজে অপরূপ রূপে। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা বিলাসবহুল হাউসবোট ও ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে আসেন।
    কেউ হিজল-করচের ভিতর দিয়ে নৌকা নিয়ে ঘুরাঘুরি করছেন। কেউবা আবার ওয়াচ টাওয়ারের ওপর থেকে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ছেন। গলা ছেড়ে গান ধরেন কেউ কেউ।
    এদিকে হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২১ জুন ১৩ নির্দেশনা জারি করে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৫ নম্বর নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, হাওরে পর্যটকরা ঘুরতে এসে গাছকাটা, গাছের ডাল ভাঙা বা বনজ সম্পদ সংগ্রহ করা যাবে না। অথচ পর্যটকরা হাওরে অবাধে হিজল-করচ গাছের ওপর উঠেন। গানের তালে হিজল-করচের ডাল ভেঙে হাওরের বিপর্যয় ডেকে আনছেন। অন্য নির্দেশনাও মানছেন না তারা।
    ২২ জুন ২৫ইং রাতে হাওর এলাকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। সে নিষেধাজ্ঞাও মানছে না হাউসবোট মালিক ও পর্যটকরা।
    সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, হাওর এলাকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাওরের ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের সংরক্ষিত এলাকায় হাউসবোট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।