কোরআনের মাসে আমাদের জীবন কতটা কোরআনময় করতে পেরেছি?

কোরআনের মাসে আমাদের জীবন কতটা কোরআনময় করতে পেরেছি?

কোরআনের রঙে জীবনকে রঙিন করার সুবর্ণ সুযোগ রমজান। মুসলমানের জীবনে মাহে রমজান আসে জীবনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর তাগিদ নিয়ে।

পবিত্র রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে অবতীর্ণ হয়েছে মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ ‘কোরআনুল কারিম’। রহমত, বরকত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে শুরু হওয়া রমজানের প্রথম দশক প্রায় শেষের দিকে।

পবিত্র কোরআন পাঠ ও শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন- ‘রমজান হলো এমন একটি মাস, যে মাসে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে লোকদের হেদায়েতের জন্য এবং সত্যপথযাত্রীদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী হিসেবে’। (সুরা বাকারা: ১৮৫)।

মহান আল্লাহতায়ালা অন্যত্র এরশাদ করেন- ‘আমি কালামুল্লাহকে পৃথক পৃথক পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং ওহি যথার্থভাবে অবতীর্ণ করেছি’। (সুরা বনি ইসরাইল: ১০৬)।

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রমজান মাসের রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্য সুন্নতরুপে চালু করেছি। রমজানে মাসব্যাপী আল্লাহর ইবাদতে দাঁড়ানো (সুন্নাতু লাকুম কিয়ামাহু)।

কাজেই যে লোকেই এই মাসে রোজা পালন করবে, আর আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে ঈমান ও সচেতনসহকারে সে তার গুনাহ হতে নিষ্কৃতি লাভ করে। সে ব্যক্তি ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছেন’। (নাসায়ি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- ‘কোরআন নিজেই পরকালীন মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট বলিষ্ঠ সুপারিশ করবে’। (মুসলিম)।

কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত উসমান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন মাজিদ শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (বোখারি)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন কেয়ামতের দিন) কোরআনের বাহককে বলা হবে- পড় এবং আরোহণ করো! তিলাওয়াত করো যেভাবে দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতে! নিশ্চয়ই তোমার পড়া যেখানে শেষ হবে সেটিই তোমার স্থান। (তিরমিজি)।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যার মাঝে কোরআনের কোনো অংশ নেই সে পতিত (বিরান) ঘরের মতো’। (আবু দাউদ)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল বলেছেন– যখন কেউ কোরআন তিলাওয়াত করে তখন তার একটি একটি হরফ তিলাওয়াতের বদলে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। আমি এ কথা বলছি না, আলিফ লাম মিম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি, লাম একটি, মিম একটি হরফ।

সুতরাং কেউ যখন আলিফ পড়বে, তখন তার জন্য ৩০টি নেকি লেখা হবে। পুরো বাক্যটি পড়লে ৩০ নেকি অর্জন হবে’। (তিরমিজি)

হজরত আবু উমামা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলে কারিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি– তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করতে থাকো; কেননা কোরআন কিয়ামত দিবসে তার সাথীদের ব্যাপারে সুপারিশ করবে’। (মুসলিম)।

হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে সংরক্ষণ করে এবং যে কোরআনে সুদক্ষ, কিয়ামতের দিন সে মহান ফেরেশতা লেখকগণের তুল্য মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি তার পক্ষে কঠিন হওয়া সত্ত্বেও কোরআন বারবার আওড়াতে থাকে সে দ্বিগুণ সওয়াব অর্জন করবে’। (বোখারি)।

রমজান মাসে হযরত জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.) এর সঙ্গে ‘দাওর’ করতেন, পূর্ণ কোরআন একে অপরকে শোনাতেন। হযরত ওসমান (রা.) প্রতি রাতে কোরআন এক খতম করতেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) রমজানে ৬১ বার কোরআন খতম করতেন।

ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) রমজানের ৩০ দিনে ৩০ খতম, ৩০ রাত্রে ৩০ খতম ও তারাবিতে এক খতম মোট ৬১ খতম করতেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) নামাজের বাইরে ৬০ বার কোরআন খতম করেছেন।

কোরআনের ছোঁয়ায় রমজান ধন্য। কোরআন নাজিলের মাসে আমাদের জীবনকে কতটা কোরআনময় করতে পেরেছি? রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমানের প্রচুর পরিমাণে কোরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া অতিজরুরি।

যারা তিলাওয়াত জানেন না, এই রমজানকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে কোরআন শিখুন। আসুন কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাসকে কোরআন পাঠ ও চর্চার মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করি।