হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মাধবপুর পৌরসভা বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতার প্রকাশ্য অংশগ্রহণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়—আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের প্রশ্ন, যেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে দেখামাত্রই গ্রেপ্তার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কীভাবে তারা প্রকাশ্যে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকে বিএনপির প্রচারণায় এবং প্রচারণা কমিটিতে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে, তারা হলেন—পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হীরালাল সরকার হিরো ও সাধারণ সম্পাদক বেনু রায়,ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল মিয়া,
পৌর কৃষকলীগের সদস্য মামুন মিয়া ও সাবেক পৌর ছাত্রলীগ নেতা গোলাম নূর।
এছাড়াও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই কৃষকলীগ নেতা কালা মিয়া ও সোয়াব মিয়াকেও বিএনপির প্রচারণায় দেখা গেছে বলে দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“কৃষ্ণ করলে লীলা, আমরা করলে বিলা। সারাদিন শুধু ‘ডেভিল’ ধরে বেড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে ধানের শীষের নিয়ে ভোট চাইলে সমস্যা নেই—তাদের দাসত্ব মেনে নিলেই সব ঠিক।মনে হচ্ছে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংখ্যা কমেই গেছে।”
অন্যদিকে বিএনপির একাধিক নেতার ভাষ্য,
“নির্বাচনী প্রচারণায় কাগজে-কলমে কিংবা প্রকাশ্যে এভাবে ভিন্ন দলের নেতাদের যুক্ত করা হলে তা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি সত্য হলে অবশ্যই কেন্দ্রীয়ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।”
ঘটনাটি নিয়ে মাধবপুরের রাজনীতিতে এখন চরম অস্বস্তি ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—নির্বাচনী রাজনীতিতে আদর্শ, পরিচয় ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শেষ পর্যন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে?


