জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

এই দেশে বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় মিরাকল!

এই দেশে কেউ নিরাপদ না।

এই দেশে আপনি বেঁচে আছেন—এটাই সবচেয়ে বড় মিরাকল।
কারণ, এই দেশের নাগরিকদের কোনো মূল্য নেই।
সবচেয়ে সস্তা জিনিসটা এখানে মানুষের জীবন।

ভাবুন—
আপনি ঢাকার রাস্তায় বের হলেন। হঠাৎ করে মাথার ওপর থেকে মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড (বিয়ারিং স্প্রিং) খুলে পড়ল। মুহূর্তেই আপনি নি-হত।
কার দায়?
কেউ জানে না। কেউ নেয় না।

আপনি রাস্তায় চলছেন, হঠাৎ কোনো আন্দোলন।
আপনাকে শিবির ট্যাগ দেওয়া হলো।
হিন্দু ধর্মের অনুসারী বলেও আপনাকে রেহাই দেওয়া হবে না।
বিশ্বজিৎ-এর মতো প্রকাশ্য রাস্তায় কু-পিয়ে হ-ত্যা করা হবে—আর চারপাশ দাঁড়িয়ে শুধু ভিডিও করবে।

আপনি সীমান্ত এলাকায় গেলেন
কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গু-লি।
কাঁটাতারের ফাঁকে ফিলানীর মতো ঝুলে থাকবে আপনার লা-শ।

রাষ্ট্র চুপ, প্রতিবেশী চুপ—মানুষের জীবন এখানে কেবল একটি সংখ্যা।

আপনি রাস্তায় বের হলেন—
শ-হিদ হাদি ভাইয়ের মতো প্রকাশ্যে গু-লি করে মা-রা হবে আপনাকে। তাও রাষ্ট্র চুপ থাকবে।

আপনি এবার রাস্তা পারাপার করলেন—
একটি বেপরোয়া ট্রাক চাপা দিয়ে চলে যাবে আপনার বুকের ওপর দিয়ে। এই দেশটা এমনই। তাও সড়কের নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা দিবে না।

এই বাস্তবতার মাঝেই, আজ হবিগঞ্জে আবার দুইটি জীবন নিভে গেল।
একজন শিশু—রাজি ইবনে মাহবুব।
একজন বাবার একমাত্র সন্তান।
একজন মাদ্রাসাছাত্র, যার চোখে ছিল কুরআনের স্বপ্ন।
খোয়াই নদীর পাড়ে মিলিয়ে গেল সেই স্বপ্ন।
কেন, কীভাবে—এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।

আরেকজন—শহরের প্রিয় ইমাম,
হাফেজ সেলিম আহমেদ।
যিনি প্রতিদিন মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতেন,
আজ তিনি নিজেই সড়ক দুর্ঘট-নার শিকার।
একটি রাস্তা কেড়ে নিল একটি মসজিদের কণ্ঠস্বর।

এই মৃত্যু শুধু রাজির পরিবারের না,
শুধু হাফেজ সেলিমের পরিবারের না—
এগুলো আমাদের সমাজের আয়না।

এই দেশে আপনি নিরাপদ না—
শিশু হলে না, ইমাম হলে না, সাধারণ মানুষ হলে তো নয়ই।
তবু আমরা চুপ। রাষ্ট্রও চুপ!

কারণ আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
কিন্তু মনে রাখবেন—
আজ রাজি, আজ হাফেজ সেলিম।
আগামীকাল নামটা আপনারও হতে পারে।
এই দেশে বেঁচে থাকা কোনো অধিকার না—
এটা এখন শুধুই ভাগ্যের ব্যাপার।