হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জেরে নিজ শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ তামান্না আক্তার (২২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ একসঙ্গেই বসবাস করতেন।
গত সোমবার সকালে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে ২৪ ঘনবীগঞ্জে পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি শাশুড়ি, গ্রেফতার ১ঘন্টার ” মধ্যে পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তামান্না আক্তারের সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার রাতে ওই যুবকসহ আরও ২-৩ জন সহযোগী তামান্নার বাড়িতে আসে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের চেষ্টা চালায়।
তামান্নার কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আলমারি ভেঙে শাশুড়ির আরও ৫ ভরি স্বর্ণ তারা নিয়ে নেয়। এ সময় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তখন তামান্না আক্তার, তার প্রেমিক ও সহযোগীরা মিলে তার হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে তামান্না আক্তার, তার পরকীয়া প্রেমিকসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুত্রবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

