হবিগঞ্জ–৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী–এর নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য ওয়াজ মাহফিল বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর এক নেতা।
রোববার (১ মার্চ) মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি দাখিল করেন উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন।
জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মুরাদপুর এলাকায় আগামী সোমবার (২ মার্চ) একটি ধর্মীয় ওরস ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মোবারক হোসেন উল্লেখ করেন, উক্ত মাহফিলের আড়ালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের আশঙ্কা রয়েছে। তার দাবি, মাহফিলে অংশ নেওয়া বক্তা সরকারবিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে পারেন, যা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকে তাহেরী বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, মাহফিলের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ওরস ও ওয়াজ মাহফিল। এতে আল্লামা কাফিল উদ্দিন সরকার, মুফতি মোস্তফা কামালসহ মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বক্তব্য রাখবেন। আয়োজকরা দাবি করেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেই মাহফিলের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা আরও বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন,
“আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে মাহফিলটি বিনা বাধায় অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে ওয়াজ মাহফিলটি নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কোনো বাধার মুখে পড়বে—তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


