হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর যৌন হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের ঘটনা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী, যিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত, যৌন হয়রানির বিভিন্ন তথ্য–প্রমাণ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। ভুক্তভোগী মাহফুজা আক্তার নুসরাত উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বড়ুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নুসরাত অভিযোগ করে জানান, ওই বিএনপি নেতা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব, ইভটিজিং ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছেন। এসব ঘটনার একাধিক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পরিবারকে ‘আওয়ামী লীগ’ বানিয়ে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. ফয়সাল মিয়া ফোনে জানান,
“আমি একজন প্রবাসী ও রেমিটেন্স যোদ্ধা। দেশে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকিতে। আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগী নুসরাত বলেন,
“থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। আমি যৌন হয়রানির প্রমাণ দিয়েছি। এসপি ও ডিসি সবাই বিষয়টি জানেন। এরপরও আমাকে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার বাবা-মাকেও ভয় দেখানো হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমিও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন,
“কেউ অপরাধ করলে দল তার দায় নেবে না। দোষী হলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ইকরাম বলেন,
“যেই হোক না কেন, গুরুতর অপরাধ করলে তার বিচার হতেই হবে। প্রকৃত বিএনপি কর্মীরা কখনো এ ধরনের অপকর্মে জড়াতে পারে না।”
এই বিষয়ে মাধবপুর থানার ওসি মাহাবুব মোরশেদ খান হবিগঞ্জ নিউজকে জানান, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।


