জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

বানিয়াচংয়ে কুখ্যাত ডাকাত জুসেদ গণধোলাইয়ের পর থানায় সোপর্দ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কুখ্যাত ডাকাত ঝিলকি ও তার সহযোগী তিনজন ক্রসফায়ার ও বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হলেও এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা থামেনি। বরং এসব অপরাধ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পুরান ভাগ মহল্লায় একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালায় কুখ্যাত ডাকাত জুসেদ ও তার সহযোগীরা। এ সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার দিলে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সকালে এলাকাবাসী জুসেদকে চিনে ফেললে তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়।

আটককৃত ডাকাতের নাম জুসেদ মিয়া (৩০)। তিনি বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের মাদারীটুলা মহল্লার বাসিন্দা এবং ক্রসফায়ারে নিহত কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ওরফে ঝিলকি-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানা গেছে। জুসেদ মৃত সনজই উল্বার পুত্র।

এলাকাবাসী জানান, জুসেদ দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনতার হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

শনিবার রাতে ডাকাতির ব্যর্থ চেষ্টার পর সকালে পুরান ভাগ মহল্লার ভেতরে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে রশি দিয়ে বেঁধে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরবর্তীতে মহল্লাবাসীর সিদ্ধান্তে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে তাকে বানিয়াচং থানায় সোপর্দ করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝিলকি নিহত হওয়ার পর তার আরও তিন সহযোগী বিভিন্ন ঘটনায় মারা গেলেও জুসেদ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। বরং নতুন নতুন চোর, ডাকাত ও মাদকসেবীদের সংগঠিত করে বানিয়াচংসহ আশপাশের উপজেলায় অপরাধ বিস্তার করে চলছিল। এমনকি জেলার বাইরের চিহ্নিত অপরাধীদের এনে ডাকাতি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুসেদের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে সাগরদিঘীর পূর্বপাড় এলাকা থেকে একটি মিশুক চুরির ঘটনায় আটক হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বানিয়াচং উপজেলায় সক্রিয় তালিকাভুক্ত ডাকাত ও মাদক কারবারিদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। তাদের মতে, এসব মূল হোতাদের দমন করা গেলে উপজেলায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ডাকাত জুসেদকে থানায় সোপর্দ করার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ-এর বক্তব্য জানতে তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্নেরও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।